এই সময়: ‘এক দেশ-এক ভোট’ নিয়ে নিজের আপত্তি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সচিব নীতেন চন্দ্রকে গত সোমবার একটি চিঠি দিয়েছেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো হিসাবে নিজের ছ’দফা আপত্তির কথা জানিয়েছেন তিনি। লোকসভা ভোটের সঙ্গেই দেশের সব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন করা যায় কি না, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জানতে চেয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা তো রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর উপরে আঘাত।’ চিঠিতে মমতা লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোবিশিষ্ট দেশে একটি কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও একাধিক রাজ্য সরকার রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, তার পরেও ‘এক দেশ’ বা ‘ওয়ান নেশন’ ধারণায় কী ভাবে আসা হচ্ছে?

তাঁর বক্তব্য, ‘আমি স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তাই আমি আপনাদের (কেন্দ্র) এই পরিকল্পনারও বিরুদ্ধে।’ দেশের সর্বত্র লোকসভা ভোটের সঙ্গে বিধানসভা ভোট এবং অন্যান্য স্থানীয় ভোট করার একাধিক সমস্যা রয়েছে বলেও চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি। মমতার প্রশ্ন, এই পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে কেন পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত বিধানসভাকে আগে ভেঙে দেওয়া হবে, কিংবা কোনও বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর পরেও বাড়ানো হবে? এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

‘এক দেশ এক ভোটে’র জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রাজ্যের সরকারগুলির কোনও মতামত না নিয়েই কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বাকিদের জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—এই আশঙ্কা থেকেই কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে রাখা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, প্রকৃতিগত ভাবে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হলে সংবিধানেও প্রয়োজনীয় বদল আনতে হবে।

এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশে বৈচিত্রের পরিবেশ এবং সংবিধানের মূল কাঠামোর ধারা ক্ষুণ্ণ হবে বলেও দাবি করেন মমতা। চিঠির শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি দুঃখিত যে এক দেশ-এক ভোট ধারণার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। আমরা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছি না।’ যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। সরকারি খরচে উনি অশোক স্তম্ভের সামনে বৈঠক করেন, অথচ বিরোধীদের ডাকেন না। স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে সরকার চালান। এসব কথা ওঁর মুখে মানায় না।’

Abhishek Banerjee : ‘দল যেখানে যেতে বলবে, সেখানে যাব’! মন্তব্য় অভিষেকের
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, আলাদা আলাদা নির্বাচন মানে প্রতি ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ খরচের পাশাপাশি বিশাল জনবল অর্থাৎ সরকারি কর্মী ও অফিসার নিয়োগ করতে হয়। একসঙ্গে ভোট হলে পাঁচ বছরে এক বার মাস দেড়েকের জন্য আদর্শ আচরণ বিধি চালু থাকবে। তাতে উন্নয়ন থমকে থাকবে না। এই নীতি কার্যকরের দিকগুলি খতিয়ে দেখার জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়েছে কেন্দ্র।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version