হুগলির পান্ডুয়ার হারাধন চন্দ্র নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক, শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়ার সংখ্যা ৬০২, তারা সবাই স্কুলে আসতে ভালোবাসে। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলের পরিবেশ তাদের পছন্দ। গড়পড়তা সরকার পোষিত স্কুলগুলো যেমন, এই স্কুল ঠিক তেমন নয়। স্কুলের দেওয়ালে পশু-পাখির ছবি,মনীষীদের ছবি,ম্যাপ আঁকা। ছড়া – ছবিতে শেখে শিশুরা। স্কুলের পিছনে সবজির বাগান। সঙ্গে খেলার মাঠ, তাতে হরেক খেলার আয়োজন। পড়াশোনাটা যেন চাপের না হয় তার জন্য শিক্ষক শিক্ষিকারা সচেষ্ট থাকেন। একবার না বুঝতে পারলে বারবার বুঝিয়ে দেন তাঁরা।

আসলে স্মার্ট ক্লাস চালু হওয়ায় উপকৃত হচ্ছে পড়ুয়ারা। দেশ বিদেশের ভূগোল বিজ্ঞান প্রকৃতি পাঠ হচ্ছে স্মার্ট ক্লাসে। মজা করে শিখছে শিশুরা। খুশি অভিভাবকরাও। প্রতিযোগিতার বাজারে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নিজের সন্তানকে ভালো শিক্ষা দিতে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করতে চান। সরকারি স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না, তেমন অভিযোগও ওঠে কখনও কখনও। সেদিক থেকে দেখতে গেলে পান্ডুয়ার এই স্কুল ব্যাতিক্রম।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব ঘোষ বলেন, সরকারি স্কুলও যে করতে পারে সেই চেষ্টাই আমরা করেছি। সাধারণ প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা যা থাকে তার থেকে অনেক বেশি আমাদের স্কুলে আছে। স্কুলের ঠান্ডা জলের মেশিন, প্রজেক্টর, অডিও ভিস্যুয়াল মাধ্যমে পড়ানো,ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করার উপর আমরা জোর দিয়েছি। ফলে প্রতিবছরই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। কিছুটা সরকারি সাহায্য কিছুটা সাধারন মানুষের সহযোগিতা, শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় আমরা করতে পেরেছি।

এক অভিভাবক জামিরুল ইসলাম বলেন, স্কুলে পঠন-পাঠন খুবই ভালো হয় এবং পরিবেশও এত সুন্দর যে কারণে অনেক দূর থেকেও পড়ুয়ারা পড়তে আসে। মীরা চক্রবর্তী নামে আরও এক অভিভাবক বলেন, স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকরা প্রত্যেকেই ভালো, যত্ন নিয়ে শেখান। স্কুলের পরিবেশ এত ভালো বলে বাচ্চারা স্কুল কামাই করতে চায় না। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ঋত্বিকা সাহার মত, তার সহপাঠীরা রোজ স্কুলে আসে পড়ে শেখে। প্রসঙ্গত, বাংলা মাধ্যম স্কুলে দিনদিনই পড়ুয়া কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। একটা বড় অংশের বাবা-মায়েরা বাংলা মাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিয়ে যাচ্ছেন ইংরেজি মিডিয়াতে। সেই জায়গায় পান্ডুয়ার এই স্কুল নয়া নজির বলেই মনে করছে শিক্ষামহলের একাংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version