এবার সমবায় সমিতির নির্বাচনে বাম – বিজেপি জোটকে হারিয়ে জয়ী হল তৃণমূল। ঘটনাস্থল পূর্ব মেদীনীপুরের পাঁশকুড়া। এলাকার পুলশিটা পল্লীশ্রী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে মোট ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল সবক’টিতেই প্রার্থী দেয়। অন্যদিকে নির্বাচনে জোট করে লড়াই করে বাম ও বিজেপি। কড়া পুলিশ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় সমবায় সমিতির নির্বাচন। জয়ের পরে বিজয় মিছিলও বের করে তৃণমূল।

ফলাফল প্রকাশিত হতে দেখা যায়, তৃণমূল ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর বাম বিজেপি জোটের দখলে গিয়েছে ৫টি আসন। ফলে পুনরায় সমবায় সমিতি নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হল তৃণমূল। জয়ের পরে সবুজ আবির মেখে উল্লাসে মেতে ওঠেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। উলটো দিকে এটিকে রাম – বাম জোট মানতে নারাজ বিজেপি এবং সিপিএম।

ফলাফল ঘোষণার পরেই তৃণমূল বিজেপির মধ্যে স্লোগানের লড়াই শুরু হয়। স্লোগানের পালটা স্লোগান দেয় পাশাপাশি বিজেপি এবং তৃণমূল। তাঁদের সামাল দিতে এক প্রকার হিমশিম খেতে হয় পাঁশকুড়া থানার পুলিশকে। মিছিলে বাধা দিলে একপ্রকার পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ায় তৃণমূল। অভিযোগ, পুলিশকে ঠেলেই বিজয় মিছিল এগিয়ে নিয়ে যায় তৃণমূল।

এই বিষয়ে পাঁশকুড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ‘একদিকে সিপিএম ও বিজেপি জোট করে লড়াই করছিল, ‘অন্যদিকে ১২টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করেছে। ৭ জন প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচতি হয়েছে। বোর্ড তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় দখল করেছে। সিপিএম ও বিজেপির জোট ৫টা আসন দখল করেছে। মানুষ পঞ্চায়েত ভোটে হাউড় পঞ্চায়েত বিজেপিকে দিলেও সমবায় ভোটে প্রত্যাঘাত করেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ফিরে এসেছে।’

অন্যদিকে সিপিএম নেতা নিতাই সান্নিগ্রাহী বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনে প্রার্তী দিতে পারিনি, ৮টি আশে প্রার্থী দিয়েছিলাম। তার মধ্যে ২ আসনে আমাদের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। শাসকদল সমস্ত নির্বাচনে রাম-বাম জোট খাড়া করে বামপন্থীদের খাটো করার চেষ্টা করে। রাম-বামের নীতিতে আকাশ পাতাল ফারাক। জলে-তেলে যেমন মেশে না, তেমনই বামপন্থী ও বিজেপির রাজনীতির মধ্যেও মিলমিশ নেই। একইসঙ্গে পুলিশকে ঠেলে বিজয় মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেন নিতাই সান্নিগ্রাহী।’ প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পূর্ব মেদিনীপুরের বুকে তৃণমূলের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version