কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিকের একটি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন। পঞ্চম শ্রেণিকে প্রাথমিক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হোক, এই মর্মে একটা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে। সেই মামলা থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

কী নিয়ে মামলা?

মামলাকারীদের তরফে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের একাধিক হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির পঠন-পাঠন হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা অধিকার আইন অনুযায়ী, দু নম্বর ধারার অন্তগর উপধারায় বলা আছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট একটি পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠনকে প্রাথমিক স্তর হিসেবে বিবেচ্য করা হবে।

মামলাকারীদের এখানেই দাবি, রাজ্যের অনেক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ঢোকানো রয়েছে। যদিও, কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার টেট পরীক্ষা নেয়। পাশাপাশি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু, পঞ্চম শ্রেণিকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক স্তরে ঢোকানো হচ্ছে না। সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

কী জানালেন বিচারপতি?

যদিও এই মামলা নিয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘এই মামলাটির সঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট নীতির বিষয়ে জড়িয়ে রয়েছে। এটিকে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রাহ্য করা উচিত।’ সেই কারণে এই মামলাটি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে পাঠিয়ে শুনানি করা প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই তিনি এই মামলা থেকে অব্যাহতি নেন।

Justice Abhijit Ganguly News: ‘বহু বিখ্যাত মানুষ কাজ করলে গেলে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে’, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগী নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিকের পরিকাঠামো, শিক্ষক, পড়ুয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানোর জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল স্কুল শিক্ষা দফতর। পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা না থাকলে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকেই আবেদনকারী স্কুলগুলিতে প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণি চালু করার অনুমতি দেওয়া শুরু হয়েছিল। কিক্লনটু, তারপরেও একাধিক হাই স্কুলে এখনও পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন চলছে। সেই কারণেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলা দায়ের হয়। তবে ‘বৃহত্তর স্বার্থ’ থাকার কারণে মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version