শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় সেই সময় ৬২ জন ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ প্রাথমিকে চাকরি পেয়েছেন। হুগলির এই ঘটনায় উঠে এসেছে বাম আমলের ‘চাকরি দুর্নীতি’। এবার এই নিয়ে প্রশ্ন করা হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। কিন্তু, সরাসরি এই ঘটনা প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করলেন না তিনি।

কিন্তু, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ার পার্সন তথা তৃণমূল নেত্রী শিল্পা নন্দীর প্রশংসা করতে শোনা গেল কলকাতা হাইকোর্টের এই বিচারপতিকে। হুগলির ঘটনায় যখন গোটা রাজ্যজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে সেই সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন শিল্পা নন্দী এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুক্রবার বইমেলায় গিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

এদিন তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্ট়ের মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু, বইমেলা প্রাঙ্গনে এই প্রশ্নের জবাব তিনি দেবেন না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন। রাজনৈতিক কোনও প্রশ্নের তিনি জবাব দেবেন না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেন।

হুগলির ঘটনা নিয়ে বিচারপতিকে বারংবার প্রশ্ন করা হয়। অনেকে মৃত্যুর পর নিয়োগপত্র পেয়েছেন, এই বিষয়টিকে কী ভাবে দেখছেন? তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি কিছু এই নিয়ে বলব না। তবে এটা নিয়ে অন্য কথা বলার আছে। শুধু এটুকু বলব হুগলি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সাংসদের সভাধিপতি একাধিকবার আমার এজলাসে এসেছেন। সেখানে দেখা গিয়েছে অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে কাজটা করেন তিনি। তবে এটা একেবারে অন্য বিষয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ার পার্সন শিল্পা নন্দীকে আমি দেখেছি। তাঁকে একাধিকবার আদালতে দেখেছি মামলা সূত্রে। তাঁর কাজকর্ম অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন।’ তবে নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

Primary Teacher Recruitment 2024 : ‘রুদ্ধশ্বাস কত প্রতীক্ষা…!’ ৬০ পেরিয়ে চাকরি, মুখ খুললেন হুগলির দীনবন্ধু-অচিন্ত্যরা

হুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ছিলেন নির্মলেন্দু অধিকারী। তাঁর কার্যকালে গোটা রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি সামনে আসে। হুগলি জেলাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কুন্তল ঘোষত, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন নেতারা গ্রেফতার হন। এরপরই শিরোনামে আসে হুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পরে নির্মলেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় শিল্পা নন্দীকে।

যদিও তার আগে ২০১৮ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও সেভাবে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে তাঁকে দেখা না গেলেও তার স্বামী শুভঙ্কর নন্দির হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন শিল্পা। দায়িত্ব নেওয়ার পরে ২০২৩ সালের মে মাসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে নিজাম প্যালেসের তলব করে সিবিআই। তাঁর থেকে ২০১৪ সালের প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version