এই সময়, আসানসোল: অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা উদ্‌যাপনের সাক্ষী থাকার সুযোগ দিতে অর্ধদিবস ছুটি। কেন্দ্রের নির্দেশে চিত্তরঞ্জন রেলইঞ্জিন কারখানার সমস্ত কর্মী সোমবার সেই সুবিধা পেয়েছেন। চলতি অর্থবর্ষ শেষের আগে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যখন কারখানার সমস্ত বিভাগ দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে, তখন অর্ধেক দিন ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে ভালো ভাবে নেয়নি কারখানার কর্মী ইউনিয়নগুলি।

এমনকী এই ছুটির কারণে এদিন চিত্তরঞ্জনের কস্তুরবা গান্ধী (কেজি) হাসপাতালে আউটডোরও বন্ধ ছিল। অনেকে রোগীকেই এদিন ফিরে যেতে হয়েছেন। কারণ, আউটডোরে ডাক্তার না-দেখালে ওষুধ মেলে না। বিষয়টি এদিন জেনারেল ম্যানেজারের সচিবকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেবার ইউনিয়ন নেতা রাজীব গুপ্ত।

গত ১৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএলডব্লিউ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, সোমবার ২২ জানুয়ারি রামমন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে কারখানার সমস্ত অফিস, ওয়ার্কশপ, রেলের সব স্কুল, ডানকুনি ওয়ার্কশপ বেলা আড়াইটে পর্যন্ত ছুটি থাকছে। এর বিরোধীতায় ইউনিয়নের নেতারা জানান, কারখানায় এখন দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ হয়, তার জায়গায় এদিন কাজ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৬ ঘণ্টা।

কর্মীদের অনেকেই কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে তাঁরা কাজের ইনসেন্টিভ থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছেন তেমন অল্প ওই সময়ে কাজের সমবণ্টন নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। লেবার ইউনিয়নের নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, ‘২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে ছুটির দাবি জানানো হলে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। অথচ রামমন্দিরের উদ্বোধনে কেন্দ্র কর্মীদের ছুটি দিল। এসব কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

এ প্রসঙ্গে সিএলডব্লিউর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক তথা কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উত্তমকুমার মাইতির বক্তব্য, ‘রেল পর্ষদের থেকে যে নির্দেশ এসছে সেটাই পালন করা হচ্ছে। আর কেজি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার জন্য জরুরি বিভাগ খোলা থাকে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version