ফের নেতাজির জন্মদিনে ‘জাতীয় ছুটি’ না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে জাতীয় ছুটি ঘোষণা না করার বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। কলকাতায় নেতাজি মূর্তির সামনে জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠান থেকেই কেন্দ্রকে নিশানা মমতার।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘তাঁর জন্মদিনটা আমি ২০ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এটাকে এখনও জাতীয় ছুটির দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে পারিনি। আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ এরপরেই কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘এ দেশে রাজনৈতিক প্রচারের দিন ছুটি হিসেবে ঘোষণা হয়ে যায়, কিন্তু যাঁরা দেশের জন্য জীবন দেয়, তাঁরা বসে বসে কাঁদে।’ পালটা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘নেতাজিকে যদি কেউ সম্মান দেন তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কারণ, তিনি উদ্যোগ নিয়ে মূর্তি স্থাপন থেকে শুরু করে নেতাজির ফাইল সামনে আনার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নেতাজি প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত ভাগ হতো না। অখণ্ড ভারত হয়ে থাকতো। আমরা নেতাজির আদর্শকে মান্যতা দিয়ে থাকি। তাই তাঁকে স্মরণ করে থাকি, তাঁর দেখানো পথ অবলম্বন করে থাকি।’

প্রসঙ্গত, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি দীর্ঘদিনের। কেন্দ্র রাজ্য দড়ি টানাটানির পরেও এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি কেন্দ্রের তরফে। ২০২০ সালে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর আগেই এই ঘোষণা করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল।

Nabanna : বকেয়া নিয়ে মিটবে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন? আজই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
এর আগে, ২৩ জানুয়ারি দিনটিকে ‘দেশনায়ক দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পালটা বিজেপি-র তরফ থেকে দিনটিকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। নেতাজির জন্মদিন কেন দেশনায়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা হবে না তা নিয়েও কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ হয় দীর্ঘদিন। পরবর্তীকালে নেতাজি জন্মদিনে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যদিও, সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপরেই ছেড়ে দেয়।
নেতাজির মৃত্যুরহস্য নিয়ে সত্যিটা না জানানোর জন্যেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তিনি চলে যাওয়ার পর তাঁর কী দশা হয়েছিল, আমরা আজও জানি না। তাঁর উপর কী অত্যাচার হয়েছিল, তিনি কোথায় ছিলেন। তিনি কি লুকিয়ে ছিলেন, তাঁকে কোথায় পাঠানো হয়েছিল? আমরা জানি না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version