নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবির তলায় তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু বিতর্ক। ঘটনাস্থল হুগলির রিষড়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ নগর এলাকা। ঘটনায় বিরোধীদের কটাক্ষ, ওরা (তৃণমূল) নিজেদের নেতাজি মনে করে। যদিও তৃণমূলের পালটা দাবি এটি ‘ছাপার ভুল’!

ঠিক কী ঘটেছে?
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রিষড়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ নগর এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপিত হয়। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মাল্যদান করা হয় পতাকার নীচে থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে। এতটা পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু নেতাজির সেই ছবির নীচে একটি নামকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবির নীচে লেখা ‘শ্রী কিশোর ঘোষ (পৌর সদস্য)’। বিষয়টি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা চত্বরে।

তীব্র কটাক্ষ সিপিএম-এর
ঘটনায় সরব হন বিরোধীরা। বিরোধী সিপিএম-এর অভিযোগ এটাই তৃনমূলের সংস্কৃতি। ওরা নিজেদের নেতাজি ভাবে, তাই এমন কাজ করতে পারে। স্থানীয় সিপিএম নেতা শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, ‘উনি নিজেকে নেতাজি ভাবছেন। নেতাজির ছবির নীচে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু না লিখে কাউন্সিলর নিজের নাম লিখছেন, উনি কি নেতাজি? তবে কি তিনি নিজেকে নেতাজি প্রমাণ করতে চাইছেন? তিনি নিজেকে এই অঞ্চলের নেতাজি প্রমাণ করতে চাইছেন।’

পালটা সাফাই তৃণমূলের
যদিও তৃণমূলের রিষড়া শহর সভাপতি তথা পুরসভার কাউন্সিলর মনোজ সাউয়ের দাবি, ছাপার ভুলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন,’আমরা হোর্ডিং ছাপাতে দিলে প্রচারকের নাম তলায় লিখতে বলি। এক্ষেত্রেও তাই শুধু প্রচারকটা লেখা হয়নি।’ তবে যখন দেখা গেল এমনটা হয়েছে তখন ওই ছবি লাগান ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৯ সালে মনীষীদের ছবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। পান্ডুয়ার শশীভূষণ সাহা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মনীষীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকায় ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। সেই সময় বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, এই ভাবে বাংলার মনীষীদের অপমান করা হচ্ছে। তাঁদের ছবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কী ভাবে দেওয়া হয়, সেই প্রশ্নও তোলেন বিরোধীরা। যদিও তৃণমূলের পালটা দাবি ছিল, রাজ্যের ‘নয়া রূপকার’ মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁর ছবি দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version