আপাতত তিহাড় সংশোধনাগারেই ঠাঁই হয়েছে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। গোরু পাচারকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। ২০২২ সালে দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতার গ্রেফতারি নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায় বঙ্গ রাজনীতিতে। সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, কেষ্টর কায়দায় দল চালাতে হবে। তাঁর এই বার্তার পর থেকেই বীরভূম রাজনীতিতে ফের একবার ‘কেষ্ট নাম’ জপ করছেন নেতা-কর্মীরা, এমনটাই মতামত ওয়াকিবহাল মহলের।

গোরু পাচারকাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পরও তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, ED তাঁকে দিল্লি নিয়ে চলে যাওয়ার পর বীরভূমের রাজনীতির ‘মধ্যমণি’ হিসেবে কেষ্ট নাম ছিল না বলেই দাবি জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

এই সময় অনুব্রত মণ্ডলের কায়দায় ‘ভোকাল ট়নিক’ দিয়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠ শোনা গিয়েছে কাজল শেখদের। কিন্তু, কেষ্টর ‘সিগনেচার কমেন্ট’ মুখটাই কেমন ব্যাঁকা পারা, নকুল দানা, চড়াম চড়াম, গুড় বাতাসার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেননি তাঁরা। এদিকে পোস্টারে-ব্যানারে কোথাও যেন ব্রাত্য না থাকেন কেষ্ট, কড়া নির্দেশ ছিল দলের।

তবুও যেন দিল্লি ও বীরভূমের দূরত্বের মতোই সাম্প্রতিক বীরভূম রাজনীতি ও কেষ্টর মধ্যেও বিস্তর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। কিন্তু, সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে দলনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, কেষ্ট নীতিতেই জেলায় চালাতে হবে দল। সঙ্গে কাজল শেখকেও নেত্রীর ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। সবমিলিয়ে বীরভূমে কেষ্টর অবর্তমানেও তাঁর উপর থেকে আস্থা কমেনি, ঠারে ঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একাধিক অভিযোগ রয়েছে অনুব্রতর উপর

দীপক দাস (বিজেপি নেতা)

এরপর থেকেই অনুব্রত মণ্ডল নিয়ে ফের একবার ‘হই হই রইরই’ শুরু হয়েছে জেলার অন্দরেই। শনিবার সাঁইথিয়া শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অনুব্রত মণ্ডলের জন্য আয়োজন করা নাম সংকীর্তন। তাদের দাবি ছিল, ‘অনুব্রত মণ্ডলকে চক্রান্ত করে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর মঙ্গল কামনায় এবং মুক্তির দাবিতে এই আয়োজন।’

Anubrata Mondal News: ‘কেষ্টর টনিকই সঙ্গী…’, দলনেত্রীর বার্তা পাওয়ার পরেই বীরভূমে ‘অনুব্রত ভক্তি’-র জোয়ার
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস অবশ্য এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর কথায়, ‘একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর উপর। NIA-ও শুনছি এই বিষয়ে রিপোর্ট দেবে।’ মোটের উপর এই নাম সংকীর্তন তো বটেই, সঙ্গে বীরভূম রাজনীতিতে কেষ্টর এই ‘ঝোড়ো কামব্যাক’ নিয়েও রীতিমতো চর্চা চলছে জেলা রাজনীতির অন্দরে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version