এই সময়, ভাঙড়: একদিকে জিম। আর একদিকে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা ডর্মিটরি। এক-একটায় একসঙ্গে থাকতে পারবেন জনা কুড়ি। খোলা আকাশের নীচে সবুজ ঘাসের উপর চলবে শরীরচর্চা। প্রশিক্ষণের জন্য থাকবেন একজন ট্রেনারও। বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির উদ্যোগে রবিবার উদ্বোধন হলো ৮ কোর্টের শাটল এক্সপ্রেস ব্যাডমিন্টন স্টেডিয়ামের।

রবিবার বানতলা চর্মনগরীর কাছে আন্দুলগোড়িতে ৫৬ হাজার স্কোয়ার ফুটের এই অ্যাকাডেমির শুভ উদ্বোধন হয়। ভাঙড় ১ ব্লকের তাড়দহ অঞ্চলের দুর্গাপুর চণ্ডীপুর হাইস্কুলের পাশে অ্যাকাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী অরূপ রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও সুজিত বসু। ছিলেন রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার, ডিজি (ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাব) রণবীর কুমার, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা, অ্যাকাডেমির ম্যানেজিং ট্রাস্টি হীরক সেনগুপ্ত, কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার আইসি।

বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির অন্যতম ট্রাস্টি সুব্রত গুপ্ত বলেন, ‘এই স্টেডিয়ামে পশ্চিমবঙ্গ ও আশেপাশের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা ব্যাডমিন্টন ট্রেনিং করতে পারবে। আমরা এই অঞ্চলের স্থানীয় ছেলেমেয়েদেরও এখানে ভর্তি নিচ্ছি। আপাতত শুক্র থেকে রবিবার স্টেডিয়ামে ট্রেনিং দেওয়া হবে। পরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়লে সপ্তাহে রোজই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এই স্টেডিয়ামটির ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছিল। এখানে উচ্চমানের মোট আটটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট বানানো হয়েছে। রয়েছে উডেন কোর্টও। আগামী দিনে এখানে সুইমিং পুলও হবে। বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণে মোট আটটি প্রশিক্ষণ সেন্টার রয়েছে। সেখানে নামী খেলোয়াড়রা এসেও প্রশিক্ষণ দেন। কিন্তু সারাদিন থেকে খেলার সুযোগ মিলবে একমাত্র শাটল এক্সপ্রেস ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিতে। উপযুক্ত কোচ রেখে চলবে প্রশিক্ষণ।

এই অ্যাকাডেমিতে সম্প্রতি এক টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করা হয়। জয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মেডেল, শংসাপত্র আর বিভিন্ন গিফ্ট। স্টেডিয়ামের হেড কোচ হীরক সেনগুপ্ত এবং চিফ কোচ সঞ্জয় রায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ব্যাডমিন্টন খেলার সঙ্গে আমরা যুক্ত। তাতে যা দেখেছি, খেলতে গেলে সময় দিতে হবেই। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া প্লেয়ার তৈরি করা খুব কঠিন। তাই এই স্টেডিয়াম তৈরি করা হলো।’

Mamata Banerjee : একটু সমস্যা হয়েছে মিষ্টি হাব নিয়ে: মমতা
ছয় বছর বয়স থেকে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় বলে জানান সংস্থার আর এক সদস্য সুজিত ভট্টাচার্য। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সারা দিন থেকে খেলবে। খেলা হয়ে গেলে তারা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, রাখা হয়েছে সেই ব্যবস্থাও। তাঁদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যবস্থা করা হয়েছে সিকিউরিটি গার্ডেরও। এলাকার দুঃস্থ ছেলেমেয়েরাও এখানে খেলা শেখার সুযোগ পাবেন।

ব্যাডমিন্টন নিয়ে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের অনেকেই কলকাতা থেকে পাড়ি দেন বেঙ্গালুরু কিংবা হায়দরাবাদে। এ বার কলকাতাতেই কম খরচে এক ছাদের তলায় মিলবে এত কিছু। সায়েন্স সিটি থেকে মাত্র আধ ঘণ্টা দূরে এই ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি আগামী দিনে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের নতুন ডেস্টিনেশন হবে এমনটা বলা যেতেই পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version