বাঁকুড়ার সোনামুখীর বিজেপি নেত্রীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে তোলা হলো বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে। তাঁকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদলত। মঙ্গলবারই পাত্রসায়ের এলাকা থেকে তরুণ সামন্তকে নামে ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে করে সোনামুখী থানার পুলিশ। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিজেপি নেতা।

অভিযোগ, জেলার এক বিজেপি নেত্রীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন তরুণ সামন্ত নামে ওই বিজেপি নেতা। লাগাতার চাপের মুখে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই বিজেপি নেত্রী। অবশেষে দিন কয়েক আগে আত্মঘাতী হন তিনি। আর তারপরেই গোটা জেলাজুড়ে ছড়ায় চাঞ্চল্য।

জানা গিয়েছে, গত পুরসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ওই বিজেপি নেত্রী। সেই সময় দলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক তরুণ সামন্ত। তখনই ওই বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণের। অভিযোগ, তরুণ সামন্ত ওই বিজেপি নেত্রীকে দলের উঁচু পদে বসানোর প্রলোভন দিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান ও পরে বিষ্ণুপুরে মিটিংয়ের নাম করে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে মোবাইলে তোলা সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ।

এরপর ওই বিজেপি নেত্রী বিষয়টি তাঁর স্বামীকে জানান। এর জেরে গত ১৩ অক্টোবর ওই বিজেপি নেত্রী সোনামুখী থানায় বিজেপি নেতা তরুণ সামন্তের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। কিন্তু তারপরেও পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেই অভিযোগ। এমনকী অভিযুক্ত তরুণ সামন্ত লাগাতার ফোনে হুমকি দিতে থাকেন বলেও অভিযোগ। একটানা হুমকি এবং কুৎসিত মন্তব্য শুনতে শুনতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই বিজেপি নেত্রী। এরপর গত ২৩ তারিখ সন্ধ্যায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

যদিও অভিযুক্ত নেতার দাবি , তাঁর বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি রাজনীতির চক্রান্তের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি তরুণ সামন্তের। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version