দিল্লি সফর বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৮ তারিখ রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের জন্য দিল্লি সফর বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলত, ‘এক দেশ এক ভোট’’ সংক্রান্ত দিল্লির বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর জায়গায়, তৃণমূলের দুই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার, দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লিতে ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটির মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রীকে এই বৈঠকে ডাকা হয়। ‘এক দেশ, এক ভোট’ কর কি মত, সেটা জানানোর জন্যেই এই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তবে আপাতত সেই বৈঠক যাওয়া বাতিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিজের বিরোধিতার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, একসঙ্গে নির্বাচন হলে আমার কী? আমাদের তো ভালই। খাটনি কমে যাবে। কিন্তু এই নীতিতে কিছুটা অসুবিধার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, যদি কোনও রাজ্যে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে সেখানে কী হবে? সেখানে তাহলে কি প্রেসিডেন্সিয়াল রুল জারি হবে। তিনি বলেন, ‘এক দেশ, এক ভোট মানে আদতে প্রেসিডেন্সিয়াল ফর্ম অব ইলেকশন হবে, যেটা আমেরিকায় হয়।’

গত শুক্রবার থেকে কলকাতায় ধরনা কর্মসূচি চলছে তৃণমূল কংগ্রেসের। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের বকেয়া আদায়ের দাবিতে এই ধরনা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা। ধরনা কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই অবশ্য তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী সোমবার তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। তবে কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, এক দেশ এক ভোট সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ার কারণে।

Mamata Banerjee: বিজেপিকে আউট করতে ‘অল আউট’ পথে মমতা
যদিও, রাজ্য বাজেট আগামী ৮ তারিখ পেশ হবে এটা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সেক্ষেত্রে হঠাৎ, রাজ্য বাজেটের বিষয় জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি সফর কেন বাতিল করলেন, সেই নিয়েই নতুন করে জলনা তৈরি হয়েছে। এবারের রাজ্য বাজেট আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট। সেই বাজেটে নতুন কোনও প্রকল্প বা আর্থিক বিনিয়োগের কথা ঘোষণা তিনি করবেন কিনা, তার দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী। তবে রাজ্য বাজেটের আগে তাঁর এই দিল্লি সফর বাতিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version