সকাল থেকে বন্ধ পেট্রোল পাম্প। প্রভাব পড়ল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। আজ সকাল ৬টা থেকে আগামীকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে ২৪ ঘণ্টা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে নর্থ বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স আসোসিয়েশন। কিছুদিন আগেই সংগঠনের তরফে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটের ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের সভাপতি শ্যামল পাল চৌধুরী বলেন, ‘রাজ্যে গত পঞ্চায়েতের নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িগুলির জন্য বিভিন্ন পাম্প থেকে জ্বালানি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জ্বালানির টাকা এখনও পাম্প মালিকেরা পাননি। প্রায় উনিশ কোটি টাকা বাকি রয়েছে।’

আর সেই বকেয়া টাকার দাবিতেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান হয়েছে সংগঠের পক্ষ থেকে। আগামীদিনে লোকসভা ভোট রয়েছে। সেই সময়ও পাম্পগুলিকে তেল দিতে হবে। কিন্তু আগের অনেক টাকা বকেয়া থাকায় চিন্তায় পড়েছেন পাম্প মালিকেরা। বকেয়া টাকা না পেলে আগামী লোকসভা ভোটের সময় তেল দেবেন কি না তা নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করবেন বলেই জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

বকেয়া মেটানোর পাশাপাশি আগামী লোকসভা ভোটের জন্য পেট্রোলের খরচ বাবদ আগাম ৭৫ শতাংশ টাকা চেয়েও আন্দোলনে নেমেছে নর্থ বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স আসোসিয়েশন। এই প্রসঙ্গে শ্যামল পাল চৌধুরী আগে জানিয়েছিলেন, ২০১৭ সাল থেকে ডিলারদের কমিশন সংশোধন করা হয়নি। অথচ এই সাত বছরে মূল্যস্ফীতির হার কী ভাবে বেড়েছে, তা সকলেই জানেন। এই আবহে পাম্পগুলির অবস্থা খুবই সঙ্গীন। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যে তেল দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা এখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাম্পগুলি ধর্মঘটের জেরে প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শহর শিলিগুড়িতেও। সকাল থেকেই পাম্পগুলি বন্ধ। কিন্তু পাম্প ধর্মঘটের বিষয়ে জানতেন না অনেকেই। ফলে পেট্রল পাম্পে এসে তেল না পেয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। শিলিগুড়ি থেকে প্রচুর গাড়ি সিকিম, দার্জিলিং, ডুয়ার্স যায়। সেই গাড়িগুলির চালকেরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যদিও বিভিন্ন চালক সংগঠনগুলিকে ধর্মঘটের ব্যাপারে আগে থেকেই জানান হয়েছে। আর সেই কারণে গাড়িগুলিতে তেল ভরে রেখেছেন বিভিন্ন সংগঠনের চালকরা। আর সেই কারণে বুধবার রাতে শহরের বিভিন্ন পাম্পে গাড়ি, বাইকের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও এদিন তেল না পেয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন গাড়ি ও বাইক চালকদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version