এই সময়: কোচবিহার থেকে বঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে পারেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের দলীয় নেতৃত্বের কাছে এমনই আভাস গিয়েছে বলে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য। যদিও কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের কোথায় কবে এই জনসভা হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মমতা প্রচার শুরু করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।কিছু দিন আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর মাথায় এখনও ব্যান্ডেজ রয়েছে। যদিও গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে পড়ায় সেই অবস্থাতেও ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তবে ব্রিগেডে তৃণমূলের জনগর্জন সভার পরে মমতা কোনও নির্বাচনী সভা করেননি। কোচবিহারের প্রথম সারির এক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘দলনেত্রী কবে কোন জায়গায় জনসভা করবেন তা এখনও জানানো হয়নি। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ এলেই প্রস্তুতি শুরু হবে।’ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী সভা করেছেন। দলের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ, মমতা কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে পরপর প্রচার করতে পারেন।

২০১৯ লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। যদিও ২০২১ বিধানসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার লোকসভার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি বাদ দিলে বাকি জায়গায় হারানো জমি তৃণমূল কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। ২০২৪-এর ভোটে জোড়াফুল বিজেপির থেকে উত্তরবঙ্গের একাধিক লোকসভা ছিনিয়ে নিতে চাইছে। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ রবিবার বলেন, ‘রাজ্যের প্রতিটি বুথে আমরা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাব। তাই ধরে নিচ্ছি কমপক্ষে ৩০-৩৫টি আসন তৃণমূল পাবে। এটা আমরা বাড়ানোর চেষ্টা করব।

কিছু মানুষ হয়তো উল্টো দিকে ভোট দেবেন, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূলের পাশে রয়েছেন।’ কেন প্রতিটি বুথে তৃণমূল এত ভোট পাবে? কুণালের ব্যাখ্যা, মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সুবিধা সব ভোটার পেয়েছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কোনও না কোনও পরিবার পেয়েছে। তাই মানুষ তৃণমূলকে সমর্থন করবে। কুণালের হিসেব, ‘বিজেপির ভোট কমবেশি ৩০-৩২ শতাংশ হবে। আসন সংখ্যা ৫-১১ এর মধ্যে থাকবে। বাম ও কংগ্রেস শূন্য হবে।’

Kalipada Soren : পদ্ম ভূত-এর তাড়ায় বিব্রত পদ্মশ্রী কালীপদ
যদিও কুণালের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘উনি হলেন এই প্রজন্মের নস্ট্রাডামুস। উত্তর কলকাতায় উনি টিয়া পাখি নিয়ে বসতে পারেন। ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগেও তৃণমূল এমনই বলেছিল। ফলাফল কী হয়েছে সবাই জানেন। এবারেও কী হবে সবাই বুঝতে পারছেন। তাই উনি হতোদ্যম তৃণমূল কর্মীদের বুথে পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।’ কুণালের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘ইলেক্টোরাল বন্ড নেওয়া তৃণমূল বা বিজেপি সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখে না। যারা মানুষের স্বার্থে লড়াই করেন, মানুষ তাঁদের বেছে নেবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version