সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত ৭০ বছরের রেকর্ড প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। সেক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছেও বলা যায়। এর আগে শেষবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছেছিল ১৯৫৪ সালে। সে বছর এপ্রিলে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও তার ৭০ বছরে আর কখনও শহর ৪৩ ডিগ্রি উষ্ণ হয়নি, যা হল মঙ্গলবার।
এই বিষয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, তাপপ্রবাহ থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর ও মালদা জেলাতেও একই পরিস্থিতি। হাওয়া অফিস আরও জানাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দিনের তাপমাত্রায় কোনও বড় পরিবর্তন হবে না। সঙ্গে থাকছে তাপপ্রবাহের সতর্কতা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে আজ ও আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের কিছু কিছু জায়গায় লাল সতর্কতা বজায় থাকছে। এছাড়াও অন্যান্য বেশকিছু জায়গায় জারি থাকছে কমলা সতর্কতা। ২ মে লাল সতর্কতা জারি থাকছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বেশকিছু জায়গায় লাল সতর্কতা জারি থাকছে। পাশাপাশি অন্যান্য জেলার কিছু কিছু জায়গায় থাকছে কমলা সতর্কতা। ৩ এবং ৪ তারিখ কমলা সতর্কতা থাকছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর ও দুই বর্ধমানে কিছু জায়গায় কমলা সতর্কতা জারি রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অন্যান্য জেলাগুলিতে কোনও কোনও জায়গায় জারি থাকছে হলুদ সতর্কতা।
আবহাওয়ার রিপোর্ট
এই পরিস্থিতিতে বেশকিছু পরামর্শ দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর –
১. সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলোয় থাকা বা বাইরের কাজ এড়িয়ে চলুন।
২. হালকা ওজনের, হালকা রঙের, ঢিলেঢালা, সুতির কাপড় পরুন। মাথা ঢেকে রাখুন, তার জন্য কাপড়, টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন।
৩. জলশূন্যতা এড়াতে তৃষ্ণার্ত না হলেও পর্যাপ্ত জল পান করুন।
৪. ওআরএস ব্যবহার করুন, ঘরে তৈরি পানীয় যেমন লস্যি, লেবুর জল, বাটারমিল্ক ইত্যাদি পান করুন।
৫. হিট স্ট্রোক, হিট র্যাশ বা হিট ক্র্যাম্পের লক্ষণ খেলায় রাখুন। মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, ঘাম এবং খিঁচুনি, অজ্ঞান বা অসুস্থ বোধ করলে অবিলম্বে ডাক্তার / হাসপাতাল যান।
