প্রদীপ চক্রবর্তী, হরিপাল
জন্ম থেকেই চোখে দেখতে পায় না সে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার জমাট হলেও জীবন যুদ্ধ জারি রেখে এ বারের উচ্চ মাধ্যমিকে চোখ ধাঁধানো ফল করেছে দৃষ্টিহীন পড়ুয়া নম্রতা ঘোষ। উত্তরপাড়া মাখলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কলা বিভাগের পরীক্ষার্থী নম্রতা সঙ্গীত-সহ তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়ে ৪১২ নম্বর পেয়েছে।নম্রতাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে সহযোগিতা করেছেন পর্ষদের ঠিক করে দেওয়া রাইটার অরুণিমা ভাদুড়ি। হরিপাল ব্লকের চালদহ গ্রামের নম্রতা দৃষ্টিহীন হলেও, সরস্বতী তার হাতের মুঠোয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীত সাধনাও করে নম্রতা। অনায়াসে আধুনিক বাংলা গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। সঙ্গীত সাধনাকে পাথেয় করে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চায় নম্রতা।

সঙ্গীত নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করবে বলে জানিয়েছে ছাত্রী। মাধ্যমিক পর্যন্ত উত্তরপাড়া লুই ব্রেল মেমোরিয়াল স্কুল ফর দ্য সাইটলেস বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে নম্রতা। ভবিষ্যতে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনার লক্ষ্যেই উত্তরপাড়া মাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কলা বিভাগে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে পড়াশোনা করেছে সে।

নিজের দৃষ্টিহীনতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নম্রতা। তার কথায়, ‘আমরা তো সব কিছুই আমাদের মতো করে দেখতে পাই। অনুভব করি সৌন্দর্য। তাই লক্ষ্য সামনে রেখে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’ মেয়েকে বরাবর সাহস জুগিয়েছেন বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী মনসারাম ঘোষ ও মা নমিতা ঘোষ।

বাবা বলেন, ‘মেয়ে জন্ম থেকে দৃষ্টিহীন। কিন্তু কখনও এই নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে কোনও খারাপ ভাবনাকে স্থান দিইনি। মেয়ের সঙ্গে থেকে আমরা ওর পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছি। ছোট থেকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শেখানোর চেষ্টা করেছি। তারপর ও নিজেই গানের চর্চাকে আপন করে নিয়েছে।’

অর্থের অভাবে সায়েন্সে পড়া হয়নি, উচ্চ মাধ্যমিকে চোখ ধাঁধানো ফলাফল লটারি বিক্রেতার ছেলের

মা নমিতা বলেন, ‘মেয়ে ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো। গানের গলাও বেশ। আমরা চাই আমাদের মেয়ে এ ভাবে এগিয়ে যাক।’ জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের আধিকারিক সুদীপ্তা মজুমদার বলেন, ‘উত্তরপাড়ার ওই স্কুল থেকে নম্রতা মাধ্যমিক পাশ করার সময়ে গান যে ওর ভীষণ প্রিয় তা আমাদের বলেছিল। নম্রতার মতো ছাত্র-ছাত্রীরাই বাকিদের উৎসাহ জোগাবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version