এই সময়, দুর্গাপুর: খনি দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়াল ইসিএলের জামবাদ কোলিয়ারিতে। মৃত ওই শ্রমিকের নাম রঞ্জিত বাউড়ি (৫১)। বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ খনিগর্ভে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উপরে তুলে এনে পাঠানো হয় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান চিকিৎসকরা রঞ্জিতকে মৃত ঘোষণা করেন। কোলিয়ারিতে শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সহকর্মীরা।তাঁদের অভিযোগ, খনিতে শ্রমিক সুরক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। শ্রমিকদের অভিযোগের তির সেফটি অফিসারদের দিকে। মৃত্যুর পিছনে তাঁদের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ। মৃতের পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানান বিক্ষোভরত শ্রমিকরা। জামবাদ কোলিয়ারির এজেন্ট স্বরূপ দে বলেন, ‘নিরাপত্তার কোনও খামতি ছিল কিনা, দুর্ঘটনার কারণ সবই খতিয়ে দেখা হবে। ইসিএলের নিয়মে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

কোলিয়ারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের শিফটে খনিতে নেমেছিলেন রঞ্জিত। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ খনি থেকে উপরে ওঠার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু, তার আগে সকাল ৭টা নাগাদ দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, খনিতে নামতে হয় ডুলিতে। একদম নীচে থাকে স্প্রিং, ঝাঁকুনি এড়াতে যা কিনা শক অ্যাবজ়র্ভের কাজ করে। কোনও ভাবে সেই স্প্রিং ভেঙে ছিটকে উপরে উঠে যায়।

সেই স্প্রিংয়ের টুকরো রঞ্জিতের মাথায় এসে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনার পরেই নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন শ্রমিক নেতারা। সিটু নেতা তুফান মণ্ডল বলেন, ‘শ্রমিকদের সুরক্ষার দিকে নজর নেই ইসিএলের। শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে। সেফটি অফিসারদের দায়িত্ব নিয়মিত নজরদারি করা। কোথায় কোন মেশিনে সমস্যা রয়েছে তা মেরামতের ব্যবস্থা করা।

ছোট থেকেই কয়লা খনির প্রতি আকর্ষণ, রাজনৈতিক ‘সমর্থনে’ ফুলেফেঁপে ওঠে সাম্রাজ্য, লালাকে চেনেন?

কিন্তু এখানে সেফটি অফিসারদের নজর খালি কোন কর্মী দেরি করে কাজে আসছেন, কে এক ঘণ্টা আগে খাদান থেকে উঠে আসছেন, তাঁদের ধরে ধরে চার্জশিট দেওয়া। সুরক্ষা নিয়ে ইসিএল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলব আমরা।’ আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত কয়লা খাদান শ্রমিক কংগ্রেসের নেতা বীরবাহাদুর সিংয়ের বক্তব্য, ‘ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনও হুঁশ নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে এবার আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’

সূত্রের খবর, দীর্ঘ বিক্ষোভের পর এদিনই মৃতের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ। আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version