তৃণমূল কংগ্রেস দলের জন্ম নিতে তখন ঢের বাকি। বাম আমলের মধ্য গগনে তখন কলকাতার বুকে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছেন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা প্রদর্শনের রণাঙ্গন ছিল ব্রিগেড ময়দান। ১৯৯২ সালে সেই ময়দানেই ‘সিপিএমের মৃত্যুঘণ্টা’ বাজিয়ে ছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল সোমবার রাতে।এবার ‘বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা’ বাজালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে দাঁড়িয়ে ২০২৪ সালে দেশ থেকে বিজেপি বিদায়ের ডাকে এই ‘মৃত্যু ঘণ্টা’ বাজানোর ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে কি আরেক নতুন অধ্যায় শুরু করল? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের প্রায় শুরুর লগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক প্রচার সভায় ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন, এবার দিল্লির মসনদে আর বসছেন না নরেন্দ্র মোদী। আরেকটু পরিষ্কার করে বললে, বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট এবার আর ক্ষমতায় আসছে না। প্রায় দেড় মাস ব্যাপী প্রচারের শেষলগ্নে এসে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে ‘বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা’ বাজিয়ে সেই বিশেষ বার্তা তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Mamata Banerjee: ‘আমার ফেক ভিডিয়ো দেখাচ্ছে….’

কলকাতা উত্তরের গান্ধী ভবন বেলেঘাটা থেকে মানিকতলা ক্রসিং পর্যন্ত রোড পর্যন্ত এদিন পদযাত্রা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বর্ণাঢ্য রোড শোয়ের আয়োজন। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় জনস্রোতের মাঝেই দেখা যায় বিশালাকৃতি প্রতীকী ‘বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা’ নিয়ে আসা হয়েছে। সেই ঘণ্টা বাজিয়ে শুরু হয় পদযাত্রা। জানা গিয়েছে, পরেশ পালের এলাকায় তাঁরই উদ্যোগে এটি তৈরি করা হয়েছিল। ইতিহাসের সমাপতন। ৩২ বছর আগে সেই পরেশ পালের উদ্যোগেই ব্রিগ্রেডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ‘সিপিএমের মরত্যু ঘণ্টা’।

Mamata Banerjee : পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আমি নিজে সার্ভে করব : মমতা
মিছিলের মাঝেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘৩০ তারিখ পর্যন্ত এরকম মিছিল চলবে। আপনারা জানেন, আমি হাটঁতে ভালোবাসি। আমি যতদিন পারব, হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছব। এই দুর্যোগের মধ্যেও প্রচুর মানুষ এসে এই পদযাত্রাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’ তবে, এদিনের মিছিল থেকে ‘বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা’ বাজানো কি বিশেষ ইঙ্গিত দিল? তাহলে কি, এবার কেন্দ্র থেকে বিজেপি সরকারের পতন সময়ের অপেক্ষা? জবাব মিলবে আগামী ৪ জুন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version