BJP West Bengal : ফুল পালটে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ভাইব’ টের পাচ্ছেন এমবিএ – north kolkata bjp district president tamoghna ghosh campaign for lok sabha election


এই সময়: নিখাদ কংগ্রেসি পরিবার বলতে যা বোঝায়, তাঁর পরিবার একদা ছিল তেমন। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র ছিলেন তাঁর পিতৃতুল্য। সোমেনকে তিনি জ্যেঠু বলে ডাকতেন, যোগাযোগ ছিল নিবিড়। তাঁর বাবা তপন ঘোষ তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা, যিনি আবার কলকাতা উত্তরের বিদায়ী সাংসদ (তৃণমূলের এ বারেরও প্রার্থী) সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন চিফ ইলেকশন এজেন্ট।তিনি নিজেও মন দিয়ে বহু বছর তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও তার পর তৃণমূল করেছেন। কিন্তু ২০২১-এ সেই তমোঘ্ন ঘোষই যোগ দেন বিজেপি-তে। তরুণ এই নেতাই এখন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি। এই লোকসভা ভোটে তমোঘ্ন ব্যস্ত কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের মাটিতে পদ্মফুল ফোটানোর কঠিন লড়াইয়ে।

ক্যালকাটা বয়েজ় স্কুলের ছাত্র তমোঘ্নর রাজনৈতিক জীবনে হাতেখড়ি আমহার্স্ট স্ট্রিটের সিটি কলেজে। ওই কলেজের পিছনেই তাঁর বাড়ি। বেঙ্গালুরু থেকে এমবিএ করার পর তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কর্পোরেটে। তবে রাজনীতির টানে তাঁকে নিজের শহর কলকাতাতেই ফিরতে হয়। তার পর থেকে রাজনীতিই তাঁর ১, ২ ও ৩ নম্বর পেশা। এবং অবশ্যই প্যাশন।

ছাত্রজীবন থেকে উত্তর কলকাতায় রাজনীতি করেছেন বলে কলকাতার এই প্রান্তকে তিনি চেনেন প্রায় হাতের তেলোর মতোই। সম্ভবত সে জন্যই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে জেলা সভাপতির পদ দেওয়া হয়। তমোঘ্নর কথায়, ‘আমার জীবন-যৌবন পুরোটাই দিয়েছি তৃণমূলকে। কিন্তু চুরি-দুর্নীতি না করেও রাস্তাঘাটে বদনাম কুড়োতে হচ্ছিল। তাই, আমি ওই দল ছেড়ে দিই। বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন।’

গত ৫০ দিনে তমোঘ্ন অন্তত ১০০টি র‍্যালি করেছেন, ৪০টির বেশি সভা। তাঁর অধীনে কাজ করছে ২৭টি টিম। ঘুম, স্নান, খাওয়া-দাওয়া মাথায় উঠেছে তাঁর। রাত ৩টেয় বাড়ি ফিরে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভোটের কাজ, দলের কাজ। তার পর অল্প কিছুক্ষণ ঘুমিয়েই উঠে পড়ে সাত তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তে হচ্ছে প্রচারের কাজে। কলকাতা উত্তরে এ বার বিজেপি প্রার্থী যিনি, সেই তাপস রায়ও তমোঘ্নর মতো জোড়াফুল ছেড়ে পদ্মফুলে নাম লিখিয়েছেন।

Mamata Banerjee : ‘তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে চিড় ধরাতে পদ্মের টাকা হাতে’, বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

কিন্তু কলকাতা উত্তর লোকসভা আসন তৈরি হওয়া ইস্তক তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের সাংসদ— সেই ২০০৯ থেকে। এই মাটিতে কি পদ্ম ফোটানো সম্ভব? তমোঘ্ন বলছেন, ‘সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময়েও দেখেছি, উত্তর কলকাতার মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে সে ভাবে হয়তো না-নামলেও প্রতিবাদটা করেন ইভিএমের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর পর। এ বারও কিন্তু সেই ভাইবটাই পাচ্ছি। মানুষের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট দিতে মরিয়া হয়ে আছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *