বরাবর তিনি ট্রেকিং অন্তপ্রাণ। একাধিকবার পাহাড়ে গিয়েছেন। এইবারও দক্ষিণ সিকিমের গোচা লায় গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানেই আচমকাই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় মৃত্যু হল হাওড়ার বালির সমবায় পল্লির দেবব্রত বর(৪৬)-এর।১১ জনের একটি ট্রেকিং দলের সঙ্গে গোচা লায় গিয়েছিলেন দেবব্রত। পাহাড়ে নির্দিষ্ট গন্তব্য ছুঁয়ে নামার পথে তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হয়। তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন অন্যান্যরা। নামিয়ে আনার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু, মাঝপথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ মে বাড়ি থেকে ট্রেকিংয়ের জন্য বেরিয়েছিলেন দেবব্রত। ১৯ তারিখ ভিডিয়ো কলে শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর উচ্চতার কারণে তাঁর ফোনে নেটওয়ার্ক ছিল না। যার দরুন পরিবার যোগাযোগ করতে পারেনি। ২৫ তারিখ ফিরে আসার পথে অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, তার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। মঙ্গলবার এই খবর সামনে আসার পরেই শোকের ছায়া পরিবারে।

জানা গিয়েছে, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন দেবব্রত। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়ে। এই ট্রেকিংয়ে যাওয়ার আগে অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন দেবব্রত। সিকিম রুটের ইয়াকসম থেকে গোচা-লা পর্যন্ত ট্রেকে গিয়েছিলেন তিনি।

দেবব্রতর মৃত্যুর সংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁর পরিজনরা জানাচ্ছেন, ‘ট্রেকিংয়ের জন্য দেবব্রত বেশ উৎসাহী ছিল। ওর কোনও শারীরিক সমস্যাও সেভাবে ছিল না। ট্রেকিংয়ের বিভিন্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিল। কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল!’

শোকে পাথর দেবব্রতর প্রবীণ মা। ছেলে বেড়াতে যেতে বরাবর ভালোবাসে। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছে সে। কিন্তু, কখনও ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছে পারছেন না এই প্রবীণা। কান্না জড়়ানো গলায় তাঁর স্বগোক্তি, ‘ছেলেটা আমার হারিয়ে গেল!’ তাঁর দেহ ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এদিকে পরিবারে একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন দেবব্রত। তাঁর আয়ের উপরেই টিকে গোটা পরিবার। মঙ্গলবার এই খবর সামনে আসার পরেই শোকস্তব্ধ এলাকার বাসিন্দারাও। তাঁদের কথায়, ‘দেবব্রত বরাবর পাহাড় পাগল ছিল। নেশা ছিল ট্রেকিং। এই ধরনের কোনও ঘটনা যে ঘটতে পারে তা ভাবতেও পারছি না।’

সান্দাকফুতে ট্রেকিংয়ে গিয়ে মৃত্যু যুবকের, প্রশ্নে পরিকাঠামো

দ্রুত যাতে দেহ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয় সেই জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছে পরিবার। সূত্রের খবর, দেহ দ্রুত আনার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version