চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের সদস্য বর্ণালি মাজির অভিযোগ, ‘বালির গাড়ি চলাচল বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রধানকে বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’ রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বালি পাচারের কথা শোনার পর বলেন, ‘অবিলম্বে অবৈধ বালির কারবার বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি টাকায় তৈরি রাস্তা নষ্ট করা বরদাস্ত করা হবে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের শালডাঙা বড়কালী মন্দির থেকে নদীর ধারে শ্মশানঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিমি রাস্তা ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি করা হয়েছে। বালি বোঝাই ট্র্যাক্টরের বেপরোয়া যাতায়াতের কারণে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই রাস্তার বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে খানাখন্দ। এই রাস্তাটি তৈরি করা ঠিকাদার বুবাই চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বালি বোঝাই ট্র্যাক্টরের জন্য কিছুদিনের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ করায় বালির কারবারিরা আমাকে ফোন করে হুমকি দিচ্ছে।’
ওভারলোডেড বালির গাড়ির জন্য শালডাঙা হাটতলা থেকে নদীঘাট যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও খারাপ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বালির গাড়ি যাতায়াত বন্ধ না-হলে গ্রামের কোনও রাস্তা আস্ত থাকবে না। দামোদর নদের রণডিহা, সাঁকুড়ি ও চাকতেঁতুল— এই তিনটি ঘাট থেকে যথেচ্ছ ভাবে বালি তোলা হচ্ছে। অথচ বালির কারবারিরা কোনও রাজস্ব দিচ্ছে না রাজ্য সরকারকে। ট্র্যাক্টরের প্রতি ট্রলি বালি বিক্রি করা হচ্ছে আড়াই-তিন হাজার টাকায়। প্রায় ২০টি ট্র্যাক্টর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বালি তুলে পাচার করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।