সাম্প্রতিককালে রাজ্যে ঘটে গিয়েছে একাধিক ডাকাতির ঘটনা। আর সেই সমস্ত ডাকাতির ঘটনার তদন্তে এবার বড়সড় সাফল্য পুলিশের। এক্ষেত্রে মোট ৪টি ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪টির মধ্যে ২টি ডাকাতি ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে। আর অন্য দুটিতে অপরাধের আগেই দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে সক্ষম সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ বর্মা।আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ঘটনায় ঝাড়খন্ডের গ্যাংয়ের ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। হাওড়ার ডোমজুড়ের ঘটনায় বিহারের সমস্তিপুরে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আসানসোল-দুর্গাপুরে জামুড়িয়া থানা এবং বাঁকুড়া থানা এলাকা থেকে বড় ডাকাতির ঘটনার আগেই দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।’ এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রয়োজন মতো বিহার পুলিশ ও ঝাড়খন্ড পুলিশের সহায়তা পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ বর্মা বলেন, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালে। সেই ঘটানার তদন্ত করতে গিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ওই জায়গায় আরও ৩টি ঘটনা ঘটেছে। সেই ৩টি ঘটনাতেও ধৃতদের যোগ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি গোপনসূত্রে খবর পেয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাতে গ্রেফতার করা হয় ২ জনকে। আর ওই ঘটনাতেই বাকি ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খন্ড পুলিশ। সেক্ষেত্রে মোট ৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয়েছে অস্ত্র ও একটি গাড়ি।

মনোজ বর্মা আরও জানান, বাঁকুড়াতেও সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বাইক ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে তাদেরও ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল। ওই গ্যাংয়ের বাকিদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। আর কিছুদিন আগে হাওড়ার ডোমজুড়ে যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল, তাতে সমস্তিপুর থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি এডিজি আইনশৃঙ্খলা।

উল্লেখ্য সাম্প্রতিককালে রাজ্যে একাধিক সোনার দোকানে ঘটে গিয়েছে পরপর ডাকাতির ঘটনা। কোনও কোনও জায়গায় তো পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে রীতিমতো সংঘর্ষ দেখা গিয়েছে। সেই দিক থেকে এই গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version