এই সময়, অশোকনগর: সরকারি জায়গা দখল নিয়ে কয়েকদিন আগেই নবান্ন সভাগৃহে কর্পোরেশন ও পুরসভাগুলিকে নিয়ে বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার অশোকনগরের একটি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাসরুম দখল করে ঠিকে শ্রমিকদের থাকা-খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্কুলেরই কিছু প্রাক্তনী। বিষয়টি চেয়ারম্যান পর্যন্ত পৌঁছেছে।অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার বলেন, ‘স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। সেই বন্ধ স্কুলে কিছু ঠিকা শ্রমিক থাকছেন বলে শুনেছি। অবশ্যই পুরসভা ব্যবস্থা নেবে।’ অশোকনগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিত্যানন্দ প্রাথমিক স্কুলটি বছর কুড়ি হলো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। ছাত্রছাত্রীর অভাবেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্কুল বিল্ডিংয়ের এখন ভগ্নদশা।

সেই ভাঙাচোরা স্কুলই এখন ঠিকানা জনা কুড়ি ঠিকা শ্রমিকের। যাঁরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। অনেকে আবার ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। পুর এলাকায় রাস্তা সারাইয়ের কাজ করেন। জানা গিয়েছে তাঁদের ঠিকাদারই শ্রমিকদের স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এই ঠিকা শ্রমিকদের একটা দলের কাজ শেষ হয়ে গেলে চলে যায়। ফের আর একটা দল ঢোকে। তারাও এখানে থাকে। থাকা, খাওয়া, রান্নাবান্না, রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুম দিব্যি চলছে এখানে। সরকারি সম্পত্তি এ ভাবে দিনের পর দিন জবরদখল হয়ে পড়ে থাকায় প্রতিবাদ করেন স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্র। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নড়াচড়া শুরু হয়।

প্রাক্তনীদের কথায়, একটা সময়ে ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে ভরে থাকত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পড়ুয়া এবং শিক্ষকের অভাবে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল। ফের পড়াশোনা শুরু হবে কি না জানা নেই, অন্তত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যেন জবরদখল না হয়ে যায় সেই আবেদন করছেন প্রাক্তনীরা। স্থানীয়রা বলছেন, জবরদখলের বিষয়টি পুরসভা এবং শিক্ষা দপ্তরের নজর দেওয়া উচিত।

মুন্না কর্মকার নামে ঝাড়খণ্ডের এক ঠিকা শ্রমিক বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু বাড়িটার ভগ্নদশা। থাকতেও সমস্যা হয়। তবুও বলব স্কুলটা চালু হওয়া উচিত।’ অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার বলেন, ‘স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। সেই বন্ধ স্কুলে কিছু ঠিকা শ্রমিক থাকছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সদুত্তর পাইনি। সরকারি সম্পত্তি যাতে জবরদখল না হয়ে যায়, সে বিষয়ে পুরসভা অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version