সুজালী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আব্দুল এবং খালেক দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জেসিবি’র প্যাটার্নেই তাদের উপর অত্যাচার করে আসছে। সামান্য ঝগড়া হলেই খালেক তার দলবল নিয়ে হাজির হয়ে সালিশি সভা বসাতো। নিজের মর্জি মতো আর্থিক জরিমানা ধার্য করতো। জোর করে, ভয় দেখিয়ে সামান্য দামে গ্রামের মানুষের জমি লিখিয়ে নিতো। প্রতিবাদ করলেই হতো জরিমানা। এতদিন তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। জেসিবি গ্রেফতারের পরই পুলিশের উপর তাঁদের কিছুটা আস্থা বেড়েছে। সেই কারণে এদের অত্যাচারের কথা পুলিশের কাছে এদিন জানাতে এসেছেন তারা বলে জানিয়েছেন।
জেসিবি-র ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর আব্দুল ও তার ভাই খালেকের এক সালিশি সভার ভিডিয়ো এলাকায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিয়ো তে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তিকে চেয়ারে বসে থাকা এক যুবকের পা ধরে ক্ষমা চাইছে। পরবর্তী সময়ে কান ধরে ওঠ-বস করছে। এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ভিডিয়োটি ২০২২ সালের। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, যে ব্যক্তি পা ধরে ক্ষমা চাইছে ও কান ধরে ওঠ-বস করছে তার নাম মহঃ গফুর। উনি চোপড়া ব্লকের মের্ধাবস্তি এলাকার অঞ্চল কমিটির সদস্য। তাঁর স্ত্রী গুলেসা খাতুন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য। ভিডিয়োতে যেই ব্যক্তির পা ধরে ক্ষমা চাইছেন সেই হল মহঃ খালেক।
এই মহঃ খালেক চোপড়ার সুজালি এলাকার বাহুবলী আব্দুলের ভাই এবং লক্ষ্মীপুরের জেসিবির বন্ধু। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে তাজিমুল ওরফে জেসিবিও উপস্থিত ছিল বলেই সূত্র মারফত জানা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, খালেক ও আব্দুলের বিরুদ্ধে বিগতদিনে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে গত কিছুদিন ধরেই সে গা ঢাকা দিয়েছে। ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জবি থমাস বলেন, ‘লক্ষীপুর সালিশি কাণ্ডে জেসিবি সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা অন্য কেস। বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।’