অরূপকুমার পাল, ঝাড়গ্রাম
তপ্ত দুপুর পেরিয়ে দোরে দোরে কড়া নাড়ছেন এক আধিকারিক। হাতে ধরা তালিকা। সেই লিস্ট মিলিয়ে নির্দিষ্ট বাড়িতে গিয়ে হাজির হচ্ছেন। তার পরে নিজের পরিচয় দিয়ে বলছেন, ‘যুবশ্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন?’ বেশির ভাগ জনই মনে করতে পারছেন না। পরে মনে পড়ছে। তেমনই এক যুবক ভেবে বললেন, ‘হ্যাঁ, অনেক বছর আগে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম নথিভুক্ত করেছিলাম। তখন যুবশ্রী ফর্ম ফিলআপ করেছিলাম।’বিষয়টি শুনেই আধিকারিক বললেন,‘হ্যাঁ, ঠিকই মনে করতে পেরেছেন। আপনার নাম যুবশ্রী প্রকল্পের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এরপর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করলেই আপনি পাবেন যুবশ্রী প্রকল্পের সরকারি ভাতার টাকা।’ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যুবশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে সরকারি ভাতা পান। এ কথা জানতে পেরেই মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল যুবকের।

গত কয়েক দিন ধরে এভাবেই তালিকা ধরে ধরে ফর্ম ফিলআপ করা যুবক-যুবতীদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন ঝাড়গ্রাম এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর অরুণাভ দত্ত। এর পরে তাঁদের কী করণীয়, তা-ও সহজ ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এ দৃশ্য দেখে অনেকেই বলেছেন, ‘এ যেন দুয়ারে আধিকারিক। এভাবে কোনও দিন কোনও সরকারি আধিকারিককে বাড়িতে এসে ভাতা-তালিকায় নাম উঠেছে বলে বলতে দেখিনি!’

হঠাৎ কেন বাড়ি বাড়ি যেতে হচ্ছে?
ঝাড়গ্রাম এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর যুবশ্রীর সম্ভাব্য তালিকায় ৭৫৮ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সকলকে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে হবে। তাঁদেরকে সরকারি ভাবে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ফোন করতে গিয়ে বোঝা গিয়েছে আসল গোলমাল। কারণ ৩০৪ জনকে ফোনে পেলেও বাকি ৪৫৪ জনের সঙ্গে ফোনে যোগযোগ করা যাচ্ছে না।

কারণ আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর তাঁরা দিয়েছিলেন, তা অনেকেই বদলে ফেলেছেন। সেই নম্বর আর কাজ করছে না অথবা অন্যের মালিকানাধীন রয়েছে। যাঁদের ফোনে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামের তালিকা থেকে ঠিকানা নিয়ে সোজা বাড়িতে হাজির হচ্ছেন ডেপুটি ডিরেক্টর।

অরুণাভ দত্ত বলেন, ‘এর আগেও দেখা গিয়েছে, সম্ভাব্য নামের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর ৪০ শতাংশ মানুষ জানতে পারেন না। যার ফলে অনেকেই এই ভাতা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক দিন পরে হয়তো বিষয়টি জানতে পেরে অফিসে এসে খোঁজখবর নেন। তখন অনলাইনে ফর্ম ফিলআপের সময় পেরিয়ে যায়। সে জন্য আবেদনকারীদের বাড়িতে যাচ্ছি।’

Yuvasree Scheme : ‘যুবশ্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন?’, দুয়ারে সরকারি আধিকারিককে দেখে হতভম্ব বেলিয়া গ্রাম

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে যাঁরা এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন তাঁদের নামের সম্ভাব্য তালিকা এখন এসেছে। অরুণাভ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন প্রকৃত প্রাপকের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে। তাই এক্ষেত্রে ঠিকানা ধরে বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প রাস্তা ছিল না। তাই প্রতিদিন বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে সম্ভাব্য তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাচ্ছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version