সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
স্বচ্ছ ভারত মিশনে গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরির কাজ থেকে রাজ্য সরকার এবার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে বাদ দিয়ে দিল। গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সামনে রেখে বিডিও-রা সরাসরি এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ন করবেন। লক্ষ্য, আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে শৌচালয় নিশ্চিত করা।রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সচিব পি উল্গানাথন জেলাশাসকদের চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে মহিলাদের যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। কারণ, গ্রামের মানুষের কাছে জলবাহিত রোগের প্রতিরোধে শৌচালয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতন করার কাজটা সবচেয়ে ভালো করে করতে পারবেন মহিলারাই। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এজন্য হাতিয়ার করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে রাজ্যে পঞ্চায়েত এলাকায় ১২ লক্ষ ৫ হাজার ৯৪৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। যাদের মহিলা সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ২২ লক্ষ ৭৬৪ জন। পঞ্চায়েত সচিব চিঠিতে ১৫ অগস্টের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করার জন্য জেলাশাসকদের জানিয়ে দিয়েছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজ এলাকায় সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি গ্রামের কোন বাড়িতে শৌচালয় রয়েছে, কোথায় নেই, তার তালিকা তৈরি করবেন।

সোমবার, ৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই তালিকা সহ একটি সামগ্রিক রিপোর্ট স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি সরাসরি বিডিওর কাছে পেশ করবে। বিডিও এরপর এই তালিকা নিয়ে সরকারি পোর্টালে যাচাই করবেন। দেখা হবে তালিকা ভুক্ত কোনও ব্যক্তি অতীতে এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন কিনা।

কারণ, অনেকেই শৌচালয় তৈরির টাকা নিয়ে তা নির্মাণ করেননি। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে উপভোক্তাদের তালিকা বিডিও নিশ্চিত করবেন। এতদিন এই প্রাথমিক কাজটা সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই করতেন। বিডিও উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পরেই প্রতিটি ব্লকে সভার মাধ্যমে নির্মাণ সংক্রান্ত পদ্ধতি বুঝিয়ে বলা হবে। তারপরই তারা নির্মাণ কাজ শুরু করবে। নিয়ম মতো কাজ শেষ হলেই সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।

আবাসে বাড়তে পারে বরাদ্দ, ভোটব্যাঙ্কে ফাটল বুজবে কি?

রাজ্য সরকার আগামী ১৩ অগস্টের মধ্যে টাকা বিলির এই কাজ শেষ করতে চায়। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর জলবাহিত রোগের মোকাবিলায় উন্মুক্ত স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ বন্ধ করতে শহর ও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় নির্মাণে স্বচ্ছ ভারত মিশন কর্মসূচি নেয়। এতদিন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রূপায়ণের দায়িত্বে থাকতো। কিন্তু তাদের কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজ্য এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাদ রাখতে চায়।

দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বচ্ছ ভারত মিশনে গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় তৈরি কাজে পিছিয়ে রয়েছে। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় গড় লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের কিছু বেশি বাড়িতে শৌচালয় করা সম্ভব হয়নি। এই প্রকল্পের কাজ খাতা-কলমে মাত্র ১৫ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, শিলিগুড়ি ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও একই চিত্র। তবে সব থেকে ভালো কাজ হয়েছে আলিপুরদুয়ার ও পুরুলিয়ায়। ওই দুই জেলায় একশো শতাংশ গ্রামীণ বাড়িতে শৌচালয় তৈরি হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version