নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মিদ্দা বলেন, ‘রবিবার রাতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মেলায় মোমো খেয়ে। সোমবার ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে আট জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এদিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সকলেই সুস্থ রয়েছেন।’
অন্যদিকে, মেলা কমিটির পক্ষে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তমলালতরু দাস মহাপাত্র বলেন, ‘কয়েকজন রবিবার মোমো খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সংখ্যাটা ২০ জন মতো। এই বিষয়টি সামনে আসার পরেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়। ওই দোকানটি বন্ধ করা হয়েছে। নতুন করে আর কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।’
মেলা মানেই খাবার, কেনাকাটা। স্বাভাবিকভাবেই মোমো খাবার পরে অসুস্থতার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে অনেকেই। তবে মেলার আয়োজকরা আশ্বাস দিয়েছেন, প্রতিটি দোকানেই খাবারের সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ডেমুরিয়াতে রথের মেলা আয়োজিত হয়। ডেমুরিয়ার রথের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বর্গি হানার ইতিহাস। বাংলায় সেই সময় নবাব ছিলেন আলিবর্দী খান। তখন ডেমুরিয়ার মৈতনা এলাকায় ছিল ঘনজঙ্গল। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে পুণ্যার্থীরা পুরী যেতেন জগন্নাথ দর্শনে।
আর ভক্তদের পুরীতে যাওয়ার জন্য গাইড করতেন ডেমুরিয়া গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ মগ্নী নারায়ণ চৌধুরী। কিন্তু, কয়েকজনকে নিয়ে তিনি পুরীতে যাওয়ার সময় বালেশ্বরের কাছে একটি চটিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাতে তাঁকে জগন্নাথদেব স্বপ্নে দেখা দেন বলে কথিত আছে। বাড়ি ফিরে গ্রামের মাজনা পুকুরে থাকা কাঠ তুলে মূর্তি তৈরি করে পুরো করার দৈব নির্দেশ পান তিনি, শোনা যায় এমনটাই। এরপরেই পুকুর থেকে পাওয়া কাঠে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করে শুরু হয়েছিল পুজো। বর্গিদের ভয়ে প্রায় দশ বছর জগন্নাথদেবকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রথযাত্রার অনুষ্ঠান। পরে রথের মেলা ফের চালু হয়।
