এই সময়, নরেন্দ্রপুর: গড়িয়ার শ্রীনগরে একটি বেসরকারি নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে ভাঙচুর চালালেন ছাত্রছাত্রীরা। সংস্থার কর্ণধারকে আটকে রেখে বিক্ষোভ চলে। রাতেই নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পড়ুয়ারা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংস্থার কর্ণধার মানিকলাল জানাকে। ধৃতকে মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।গড়িয়া শ্রীনগর জলগলি এলাকায় ‘প্রোগ্রেসিভ ইনস্টিটিউট’ নামে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছ। এই প্রতিষ্ঠানে নার্সিং, প্যারামেডিক্যাল, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ফিজিয়ো থেরাপি প্রভৃতি কোর্স পড়ানো হয়। কোর্সের শেষে প্লেসমেন্টেরও ব্যবস্থা থাকে বলে দাবি সংস্থাটির। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। অথচ অনেক পড়ুয়ারই অরিজিনাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট আটকে রাখা হয়েছে।

ফলে পড়ুয়ারা অন্য কোথাও ভর্তিও হতে পারছেন না। পাচ্ছেন না কন্যাশ্রী, স্কলারশিপের টাকাও। শংসাপত্র ফেরত চাইলেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। নার্সিং পড়ুয়া কৃষ্ণা মণ্ডল বলেন, ‘আমি দফায় দফায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। ব্যাঙ্ক লোন নিয়েছি। এখন জানতে পারছি সংস্থাটিই ভুয়ো। মালিকের কোনও কথার দাম নেই।’

আর এক ছাত্রী নিশা শর্মা বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। অরিজিনাল সার্টফিকেট, মার্কশিট সব আটকে রেখেছে। বলছে ডকুমেন্টস বেঙ্গালুরু চলে গিয়েছে। এই চক্রে পড়ে কলেজে ভর্তি হতে পারিনি।’ প্রতিশ্রুতি মতো চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিকলাল জানা বলেন, ‘অনেকে মাঝপথে কলেজ ছেড়ে চলে যেতে চাইছে। তাঁরা টাকা ফেরত চেয়েছে, সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কিছু পড়ুয়াকে চেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সে কথা অবশ্য শুনতে রাজি ছিলেন না পড়ুয়ারা। সোমবার রাতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান পড়ুয়াদের একাংশ। কর্ণধার মানিকলাল জানাকে ধরে কিল, চড়, ঘুষি মারেন অভিভাবকরা। খবর পেয়ে চলে আসে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version