বন দপ্তরের মহিলা আধিকারিককে হুমকি দিয়ে ঘরে, বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি। তাঁর আচরণের সমালোচনা শোনা গিয়েছিল তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের কণ্ঠে। ওই আধিকারিককে ফোন করেছিলেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও। এবার নিজের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢোঁক গিললেন অখিল গিরি। তিনি জানালেন, মহিলা আধিকারিককে করা মন্তব্য নিয়ে তিনি অনুতপ্ত।তাজপুরে বনদপ্তরের জায়গায় জবরদখল উচ্ছেদ ঘিরে শনিবার কাঁথির ফরেস্ট অফিসার রেঞ্জ মনীষা শ-র সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অখিল গিরি। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে বনদপ্তরের জায়গায় তৈরি কিছু দোকানের বাঁশ ও খুঁটি উপড়ে ফেলা হয়। শুক্রবার সকালে দোকানদাররা বিক্ষোভ শুরু করেন। শনিবার এলাকায় মন্ত্রী এবং তাঁর কয়েকজন প্রতিনিধি আসেন। বন দপ্তর জায়গা জবরদখল করতে দেবে না স্পষ্ট জানায়। এরপরেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন অখিল গিরি। বন দফতরের মহিলা আধিকারিককে ডাং দিয়ে পেটানোর হুমকিও দেন তিনি। উত্তেজিত মন্ত্রীর মুখ থেকে একাধিক কুকথা বার হয়।

‘আপনার আয়ু সাত-আট দিন, দশ দিন’, ‘বদমায়েশ-জানোয়ার, এমন রেঞ্জ অফিসার আগে দেখিনি’, ‘যেমন ঠাকুর তেমন পুজো। এমন ডাং দিয়ে মারব, তখন বুঝতে পারবেন’, এই ধরনের মন্তব্য করতে শোনা যায় অখিল গিরিকে। তাঁর এই ভিডিয়ো সামনে আসার পরেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। শনিবার তিনি যে আচরণ করেছেন তার তীব্র সমালোচনা শোনা যায় কুণাল ঘোষের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘কারামন্ত্রী মহিলা অফিসারের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করে একদম ঠিক করেননি। মন্ত্রী মহিলা অফিসারকে নানা ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। এটা কোনওভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়, নিন্দনীয়।’

রবিবার এই ঘটনায় ঢোঁক গিললেন অখিল গিরিও। তিনি বলেন, ‘আমি রেগে গিয়ে উত্তেজনার বশে যে কথা বলেছি তা অনুচিত। একজন আধিকারিককে যে কথা বলেছি তা আমার উচিত হয়নি। তবে এই পরিস্থিতি আমি যদি না হাতে নিতাম তাহলে অন্য জটিলতা তৈরি হত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন মন্ত্রী হিসেবে আধিকারিককে এই কথা বলার পর দুঃখ পেয়েছি। এমন কথা বলার জন্য আমি অনুতপ্ত। কিন্তু, আমি মনে করি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার উচিত ছিল।’ উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরের ওই মহিলা ফরেস্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা সূত্রের খবর এমনটাই। কী ভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিশদে খোঁজ নেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version