রাজ্য়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকের ছায়া শালবনিতে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই এলাকায় এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত শিল্প গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ইস্পাত কারখানা আজও হয়নি। ঘটনার পর কাঁসাই নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। শিল্প এসেছে, তবে ইস্পাত শিল্পের তুলনায় তা কিছুই নয়! শালবনিতে ইস্পাত কারখানা গড়ার জন্য জমি দিয়েছিলেন অনেকেই। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ সেই সব জমিদাতারা।২০০৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় জমির খোঁজ। প্রথমে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে গুপ্তমণিতে, পরে শালবনিতে জমি চিহ্নিত করা হয়। শালবনির জমি পছন্দ হয় জিন্দাল গোষ্ঠীর। ২০০৭ সালে জমি অধিগ্রহণ হয়। ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর ইস্পাত প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে শালবনি ও মেদিনীপুরের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কনভয় লক্ষ্য করে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এরপর পুলিশি ধরপাকড় শুরু হয়। শুরু হয় ‘লালগড় আন্দোলন’।

২০১১ সালে ২৪ নভেম্বর কিষেনজির মৃত্যুতে সেই আন্দোলনের অবসান হয়। এরপর জঙ্গলমহলে বহু পরিবর্তন এসেছে। নানা কারণে শালবনিতে ইস্পাত কারখানা হড়ে ওঠেনি। কিন্তু, ৬০০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে জেএসডব্লিউ সিমেন্ট প্রকল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানাতেই সেখানে সিমেন্টের কারখানা গড়েন জিন্দালরা। শালবনির উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।

তবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে আজও ভোলেননি শানবনির সাধারণ মানুষ। জমিদাতাদের পক্ষে বিমল চালক বলেন, ‘রাজ্যে শালবনিতে ইস্পাত প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে রাজ্যের অবস্থাটা বদলে যেত। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো রাজনীতিক পাওয়া মুশকিল।’ একই সুর শোনা গেল আরও এক জমিদাতার কণ্ঠে। জমিদাতা তপন চালক বলেন, ‘বর্তমান সরকারও শালবনি নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছেন। তবে প্রথম এখানে ইস্পাত তৈরির কারখানা তৈরি করতে চেয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আর সেই কারণে এখানকার মানুষ তাঁর কাছে ঋণী।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version