এই সময়, ঘোলা: বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই দুর্গাপুজো হয়। সেখানে যেতে মন চাইত না। তাই ডাক্তারিতে সুযোগ পাওয়ার পর ঠিক করেছিলেন, বাড়িতেই দুর্গাপুজো করবেন। গত দু’বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে বাড়িতে পুজোর আয়োজন করেছেন। এই বছর সেই পুজোর তিনে পা দেওয়ার কথা। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন সোদপুরের ডাক্তারি পড়ুয়া ওই তরুণী।তার আগেই সব শেষ! আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় একমাত্র মেয়ের রহস্যমৃত্যুর খবর এসে পৌঁছেছে ওই তরুণীর বাড়িতে। খবর আসার পরই ভেঙে পড়েছেন ওই তরুণীর প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হোক। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। অত্যন্ত আদরে বড় হলেও কোনও অহঙ্কার ছিল না ডাক্তারি পড়ুয়া ওই তরুণীর।

প্রথম চান্সেই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেলেও তাঁকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। স্বাভাবিক, সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত ওই তরুণী কোনও প্রতিবেশী অসুস্থ হয়েছে শুনলেই নিজেই বাড়িয়ে দিতেন চিকিৎসায় হাত। তার জন্য কারও কাছে এক পয়সা পারিশ্রমিক নিতেন না। তাই প্রতিবেশীরাই বরং ওই ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণীর কাছে সাহায্য চাইতে ইতস্তত বোধ করতেন।

১৮ বছর আগে ওই তরুণীর বাবা সোদপুরের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কিছুটা দূরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নতুন বাড়ি করে ওঠেন। নতুন বাড়িতে ধুমধাম করে বছর দুয়েক হচ্ছিল দুর্গাপুজো। সেই বাড়িতে এখন শুধুই শূন্যতা। প্রতিবেশীরাও যেন বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না, সদা হাসিমুখ মেয়েটি নেই। ওই তরুণীর এক প্রতিবেশীর কথায়, ‘যে কোনও বয়সেরই হোক না কেন, প্রত্যেককে যোগ্য সম্মান দিয়ে কথা বলতেন মেয়েটি। তিনি যে ডাক্তারি পড়ুয়া, বোঝাই যেত না। ওঁদের বাড়িতে দু’বছর ধরে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। আমরাও এই পুজোয় খুব আনন্দ করতাম।’

RG Kar Doctor Death : ‘লোকের সেবা করতে এসে খুন হল’, বিচার চাইছেন মৃত চিকিৎসকের মা-বাবা

তাঁর দাবি, এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হোক। বাড়ির উল্টো দিকের এক মুদিখানার দোকানদারের কথায়, ‘ওকে ছোটবেলা থেকেই দেখছি। আমায় কাকু ডাকত। বছর খানেক আগে আমার শারীরিক কিছু সমস্যার কথা শুনে নিজে এসে আমার চিকিৎসা করেছিল। শুধু তাই নয়, একজনকে ডেকে এনে ইসিজি-ও করিয়ে দিয়েছিল। কিছু ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখার পর বলেছিল, আমি যেন ওটা একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিই। ওর কথা মতো অন্য একজন বড় ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ওই ডাক্তার তরুণীর লেখা প্রেসক্রিপশনের ওষুধই চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।’

আর এক প্রতিবেশীর কথায়, ‘করোনার সময়ে প্রতিবেশী এক প্রবীণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওঁর কথা মতোই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। অল্প বয়সেই ডাক্তারিটা খুবই ভালো রপ্ত করেছিলেন ওই তরুণী।’ মাস তিনেক আগে একটি গাড়ি কিনেছিলেন। সেই গাড়িতেই হাসপাতালে যাতায়াত করতেন। সুখের দিন যে এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে, তা বুঝতেই পারেননি তরুণীর পিসতুতো দাদাও। তাঁর কথায়, ‘আমাদের পরিবারের ও গর্ব ছিল। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি, এ ভাবে ওকে হারাতে হবে, ভাবিনি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version