দুর্নীতির সেই তদন্ত কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। আখতার অবশ্য এখনও মুর্শিদাবাদেই রয়েছেন। এ বার আরজি করে তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পরে নতুন করে হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তখন সেই আখতারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর করা পুরোনো অভিযোগকে নতুন করে মেলে ধরেন। তার ভিত্তিতে আদালত সিবিআইকে আলাদা করে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে তদন্ত করতে বলে। সেই মামলাতেই গ্রেপ্তার হলেন সন্দীপ।
সন্দীপের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, ‘সম্ভবত দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে দলের কোনও বক্তব্য নেই।’ বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যর কথায়, ‘কিছু মানুষ হয়তো উৎসাহিত। কখন সন্দীপ গ্রেপ্তার হয়, তা দেখতে এই মুহূর্তে সব মানুষ অপেক্ষা করছিল। এই অত্যাচার, সীমাহীন দুর্নীতি, ঔদ্ধত্য একা সন্দীপের পক্ষে টেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। অনুমোদন, আশীর্বাদ ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না।’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছি, সন্দীপকে কাস্টডিতে নিয়ে জেরা করতে হবে। সেই কাজটা কলকাতা পুলিশও করতে পারত। শুধু সন্দীপ নয়, তাঁর সব সাঙ্গপাঙ্গ, মাথায় যাঁরা আছেন, যার দৌলতে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ট্রান্সফার হয়ে যান, উত্তরবঙ্গ লবি-তে যাঁরা আছেন, তাঁদেরও খুঁজে বার করতে হবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনারকেও কাস্টডিতে নিয়ে জেরা করতে হবে।’
এসইউসিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যর বক্তব্য, ‘এটা আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার-সহ নাগরিকদের প্রতিবাদের জয়। এর সঙ্গে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন, সেটাও কার্যকর হওয়া অবশ্যই উচিত ছিল।’
সন্দীপের গ্রেফতারির পর পরই সন্ধ্যে সাড়ে আটটা নাগাদ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের করা একটি টুইট সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে মিডল স্টাম্প ভাঙা-সহ তিনটি উইকেটের একটি ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘স্টাম্প আপরুটেড। হোয়াট নেক্সট?’