অয়ন ঘোষাল: আরজি কর দুর্নীতির তদন্ত সাতসকালে শহরের একাধিক জায়গায় হানা দিল ইডি। গত সপ্তাহে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ তার ঘনিষ্ঠ ৫ জনের বাড়িতে প্রায় সারাদিন তল্লাশি চালায় ইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেব ইডির অন্তত ৩টি দল সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ চন্দন লৌহ। তার টালার বাড়িতে হানা দিল ইডি।

আরও পড়ুন-‘চোর, চোর’ স্লোগানের মধ্যেই ‘বড় ডাক্তার’ সন্দীপ ঘোষকে এবার জুতো!

টালা ছাড়াও আরও ২টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ ছিল তার মধ্যে হল মেডিক্যাল বর্জ্য বাংলাদেশের পাচার করা। ওই পাচারে কত টাকা এসেছে, কার কাছে গিয়েছে সেই টাকা, কোথায় তা সরানো হয়েছে সেটাই জানতে চাইছে ইডি।

আজ খুব সকালে ইডির ৩টি দল শহর ও শহরতলির তিনটি ঠিকানায় হানা দেয়। জানা যাচ্ছে আরও অনেক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এরকম আর্থিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে অভিযুক্তের একাধিক ঠিকানায় একযোগ তল্লাশি চালানো হয়। কারণ যদি একটি জায়গায় কোনও নথি পাওয়া যায় তাহলে তার প্রামাণ্য নথি অন্য জায়গায় পাওয়া নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। ইডি দেখতে চাইছে আরজি করে যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে তার তল কোথায়। একথা মাথায় রেখেই হুগলি ও দক্ষিণ  ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।

কালিন্দির  হাউসিং কমপ্লেক্সের সি-২৮ বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। এই বাড়িতে অকটেন মেডিক্যাল কোম্পানির অফিস রয়েছে। এছাড়া সন্দীপ ঘোষের নাওয়াপাড়া মল্লিক বাগান, হাতিয়ারার বাড়িতে ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, আরজি করে তরুণী চিকিত্সকের মৃত্যুর পরই সেখানে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। নিশানায় চলে আসেন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ।  সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল হাসপাতালের মেডিক্যাল বর্জ্য বিক্রি করে দেওয়া। অভিযোগ উঠেছে ওইসব  বর্জ্য বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। এছাড়াও মর্গ থেকে বেওয়ারিশ লাশ গয়েব করে দেওয়ারও অভিযোগ  উঠছে।

সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপচয়, ভেন্ডার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ, চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট বেনিয়মে বিক্রি করে দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ করেছিলেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সিবিআই । তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে সন্দীপ ঘোষ সহ বেশ কয়েকজনকে।  

সেই সন্দীপ ঘোষের একটি বাংলো বাড়ির হদিশ মিলেছে ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। বাড়িটির নাম সঙ্গীতাসন্দীপ ভিলা। বাড়ির কেয়ারটেকার জাকির লস্কর জানান, তিনি মাঝেমধ্যেই ফ্যামিলি নিয়ে এই নারায়ণপুরের বাংলো বাড়িতে আসতেন। প্রায় ২ বছর আগে তিনি এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। সারাদিন থাকতেন। খাওয়াদাওয়া করতেন। দিনেরবেলা সময় কাটাতেন। তারপর বেরিয়ে যেতেন।  

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version