তার আগে ঘণ্টা খানেক প্রচণ্ড আতঙ্কে থাকতে হয় ওই মহিলা ও তাঁর সহকর্মীকে। পুলিশ সূত্রের খবর, মহিলা আপত্তি জানালে চালকের প্রথমে বক্তব্য ছিল, এক কিলোমিটার যাওয়ার পরেই গাড়ি ইএম বাইপাসে উঠবে। কিন্তু সূর্য ডোবার পর অন্ধকার নেমে আসতেই আতঙ্কিত ওই কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার ফোন করেন নিজের বাড়িতে, তিনি ফোন করেন কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারেও।
কলকাতা পুলিশে তাঁর পরিচিত এক অফিসার অভয় দেন, গাড়ি যেন মাঝপথে দাঁড় না-করানো হয় এবং ভয় পেয়ে তিনি যেন গাড়ি থেকে নেমে না-পড়েন— কারণ, সে ক্ষেত্রে গাড়ির উপর নজরদারি করা সমস্যা হবে। এর পর ঘণ্টা খানেক প্রায় জনমানবহীন, অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি ছুটতে থাকে।
শনিবার সুজাতা বলেন, ‘ক্যাবে ওঠার ঠিক পরেই একটা ই-মেল এসেছিল। মোবাইল ফোনে সেটা দেখতে গিয়ে খেয়াল করা হয়নি যে, ড্রাইভার তার মধ্যেই বিশ্ব বাংলা গেটের রাস্তা না-ধরে একেবারে ভাঙাচোরা, সুনসান একটা রাস্তা ধরে গাড়ি ছুটিয়ে দিয়েছেন। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি আমার কথায় কান দেননি। বরং, তিনি গাড়ি চালাতে থাকেন বেপরোয়া গতিতে।’
ওই কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসারের কথায়, ‘গাড়ি বাসন্তী হাইওয়েতে ওঠার পর সেখানে বেশ কয়েকটা গাড়ি দেখে ভয় কিছুটা কাটে। চালককে আমি বলি, ওই গাড়িগুলোর পিছনে চলুন। কিন্তু চালক তার পর ফের অন্য একটি অচেনা রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছোটাতে থাকেন, আমার কথা শোনার বদলে উল্টে আমাকেই ধমকান।’
সুজাতা জানাচ্ছেন, শেষ পর্যন্ত মুকুন্দপুরের পিছন দিক থেকে ইএম বাইপাসে গাড়ি ওঠে। এরই মধ্যে ওই চালক আবার দুর্ব্যবহার শুরু করেন। পাটুলি পৌঁছনোর পর যানজটে গাড়ির গতি থমকাতেই দরজা খুলে দেন সুজাতা। বেগতিক বুঝে চালক গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন। ওই কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার এবং তাঁর তরুণী সহকর্মী প্রায় ছুটে গিয়ে পাটুলি থানায় ঢুকে সবটা জানান।
তবে সুজাতার দাবি, প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করছিল। তখন ওই কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসার নিজের পরিচয় দেন। ইতিমধ্যে থানায় মহিলার পরিচিত কয়েক জনও ফোন করেন। তার পর পুলিশ অভিযোগ নেয়। সুজাতা বলেন, ‘এর আগেও অফিস থেকে ক্যাবে করে ফিরেছি। কিন্তু ওই রকম সুনসান রাস্তা ধরে কোনও দিন কোনও ক্যাব চালক গাড়ি চালাননি। পরিচিত এক পুলিশ অফিসার গাড়ি না-থামানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। ভয়ে ঘেমেনেয়ে গেলেও সেটা মাথায় রেখেছিলাম।’
