পরবর্তীকালে ডিআইজি পদমর্যাদায় উন্নীত করে মনোজকে পাঠানো হয় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে। সেখান থেকে দার্জিলিঙের আইজি পদে যান। তখন রাজ্যে পালাবদল হয়ে ৬ বছর কেটে গিয়েছে। ২০১৭ সালে পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের সময়ও মনোজ কাজ করেছিলেন দক্ষতার সঙ্গে।
তবে, চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর্ব এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালে তখন অগ্নিগর্ভ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকা। রাজনৈতিক হানাহানির পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে প্রতিদিনই গোলমাল ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া অঞ্চলে। ঠিক সেই সময় মনোজকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের প্রধান করে পাঠানো হয়। দুষ্কৃতী দমনে সেই সময় কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছিল মনোজকে। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারেটে থাকাকালীন একাধিক সময়ে নিজেই ‘অ্যাকশন ফিল্ড’-এ নেমে পড়েন। একবার ভাটপাড়ায় গোলমালের সময়ে হেলমেট না পরেই গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছিলেন। দুষ্কৃতীদের সামলাতে খালি হাতে অ্যাকশনে সামিল হন। উল্লেখ্য, IPS মনোজের কেরিয়ারে পদকের সংখ্যাও রয়েছে একাধিক। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের পুলিশ পদক পেয়েছিলেন মনোজ বর্মা। মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক পান ২০১৯ সালে। প্রসঙ্গত, ভাটপাড়ায় শান্তি -শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য মনোজকে ওই পদক দেওয়া হয়েছিল।
একাধিক কৃতিত্বের অধিকারী সেই IPS মনোজ বর্মার হাতেই এবার শহর কলকাতার নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার পুলিশ কমিশনার হওয়ার আগে তিনি ছিলেন রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে। আরজি কর কাণ্ডের পর কলকাতা পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কেমন ব্যবস্থা নেবেন মনোজ, তার অপেক্ষায় শহরবাসী।