এই সময়, কাটোয়া: মাসির সঙ্গে কেনাকাটা সেরে বাসে ফিরছিল এক নাবালিকা ছাত্রী। হঠাৎই পিছন থেকে তার গলায় ছুরি দিয়ে একের পর এক কোপ চালাতে থাকে এক যুবক। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে চলন্ত বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায় আততায়ী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। মঙ্গলবার চোখের সামনে কয়েক নিমেষের মধ্যে ঘটে চলা নৃশংস হামলা দেখে হতচকিত হয়ে যান বাসযাত্রীরা।কেতুগ্রামের কোমরপুরে ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি ধানজমি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহুল পান্ডে বলেন, ‘বাবু শেখ নামে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’ প্রেমঘটিত আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, নিহত নাবালিকা কাটোয়ার হরিপুরের বাসিন্দা। কাটোয়ারই একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত সে। ধৃত বাবু শেখও হরিপুরেরই বাসিন্দা। অভিযোগ, বাবু প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত ওই নাবালিকাকে। কিন্তু সে কখনও বাবুর প্রেমের প্রস্তাবে গুরুত্ব দেয়নি। সম্প্রতি কেতুগ্রামে তার মাসির বাড়িতে এসেছিল নাবালিকা। মঙ্গলবার মাসির সঙ্গে কাঁদরা এলাকায় কেনাকাটা করতে গিয়েছিল সে। সেখান থেকে দুপুরের বাস ধরে কেতুগ্রামে মাসির বাড়িতে ফিরছিল।

ওই সময়ে কোমরপুর পেরোতেই একটি ইটভাটার কাছে বাবু শেখ বাসে ওঠে। পিছনের দরজার কাছে জানলার দিকে বসেছিল নাবালিকা। তার পাশের সিটেই বসেছিল তার মাসি। অভিযোগ, হঠাৎই পিছন থেকে ছুরি দিয়ে নাবালিকার গলায় আঘাত করতে থাকে বাবু। বাসের মধ্যেই রক্তে ভেসে যায় নাবালিকার শরীর।

নাবালিকার মাসি বলেন, ‘ছেলেটা এরকম কিছু করবে কল্পনাও করিনি। হঠাৎ আমার ভাইঝির গলায় ছুরির কোপ মারতে শুরু করে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগে চলন্ত বাস থেকে নেমে চম্পট দেয়।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বাস থেকে দেহটি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত যুবককে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version