এই সময়, কামারহাটি: সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত শুক্রবার রোগীমৃত্যুর জেরে হামলার ঘটনার পরেই নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারিতে এ বার গুচ্ছ পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এখনই আন্দোলন থেকে সরছেন না সাগর দত্তের জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাঁদের দাবি, যতক্ষণ না সুরক্ষিত বোধ করছেন ততদিন তাঁদের কর্মবিরতি চলবে। ফলে সোমবারও অনেক রোগীকে সাগর দত্তে এসে ভোগান্তির শিকার হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।নিরাপত্তার খুঁটিনাটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শন করেন হাসপাতাল সুপার সুজয় মিস্ত্রি। সুপারের সঙ্গে ছিল কামারহাটি থানা এবং সাগর দত্ত আউটপোস্টের পুলিশ। কোথায় কোথায় এখনও গলদ রয়েছে, বহিরাগত আটকাতে কী কী পদক্ষেপ করা দরকার সে সবই তাঁরা খতিয়ে দেখেন। অবৈধ প্রবেশ ও অযাচিত গাড়ি পার্কিং রুখতে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা এ দিন জানিয়েছেন হাসপাতাল সুপার৷

যার মধ্যে রয়েছে, নির্দিষ্ট স্টিকার ছাড়া এরপর কোনও ভাবেই হাসপাতালে বাইরের গাড়ি ঢুকতে পারবে না। যে সব গাড়ি ঢুকবে সেগুলির জন্য নির্দিষ্ট পাস ইস্যু করা হবে। তারপরেও যদি কোনও গাড়ি ঢুকে পড়ে সেক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার বুকে কোন গাড়ি ঢুকছে কতক্ষণ থাকছে সে সবই নথিবদ্ধ করে রাখতে হবে নিরাপত্তাকর্মীদের।

হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন রাস্তায় বসানো হবে গার্ডরেল। রোগী ও পরিজনদের রাতে হাসপাতালে প্রবেশের ক্ষেত্রে কারণ জানিয়ে, তবেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল জুড়ে থাকবে পুলিশি টহল। সেখানে হাসপাতালে সাধারণের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। সুজয় মিস্ত্রি বলেন, ‘হাসপাতালের নিরাপত্তায় যাতে কোনও রকম খামতি না থাকে সেটাই করা হচ্ছে। কর্তব্যে কারও কোথাও গাফিলতি হলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাগর দত্ত হাসপাতালে প্রবেশের নিয়ম বদল
এ দিকে জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যোগ দেওয়ায় প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা পরিষেবায়। তা সচল রাখতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছেন। সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত মেডিক্যাল অফিসার চেয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। প্রি, প্যারা ও নন বেডেড ক্লিনিক্যাল শিক্ষকদের দিয়ে ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ডিউটি করানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবরকম চেষ্টা করছি। পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে সব দিক থেকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়।’ যে মহিলার মৃত্যু ঘিরে শুক্রবার ধুন্ধুমার বেধে যায়, তাঁর স্বামী নবীন সাউ এ দিন বলেন, ‘সেদিন দু’ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন পরীক্ষার নাম করে এ ঘর ও ঘর ঘোরানো হয়। বার বার বলা সত্ত্বেও ডাক্তার-নার্সরা গল্পই করে যাচ্ছিলেন। এরপর একটা ইনঞ্জেকশন দেওয়ার দু’মিনিটের মধ্যে স্ত্রী মারা গেল। আমার স্ত্রীকে যারা খুন করল তারা আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

অধ্যক্ষ এ দিন আবারও আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার আবেদন জানান। অন্য দিকে, আরজি করের নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা এ দিন বলেন, ‘জুনিয়র ডাক্তাররা যে ইস্যুতে কর্মবিরতি করছেন, সেটা কি অন্যায়? আজ আমার মেয়ের সঙ্গে এ রকম ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও দিন এমন না ঘটে তা সুনিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version