মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। সোমবার সকাল থেকেই প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা এবং বিজেপি প্রার্থী শুভজিৎ রায়কে। কোন প্রার্থীর পাল্লা ভারী? কী বলছে জেলা রাজনৈতিক মহল?সুজয় হাজরা তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। সুজয় পেশায় ব্যবসায়ী। কলেজ জীবনে ছাত্র পরিষদ থেকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর টিএমসিপি-র সদস্য হন তিনি। ২০০২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জেলা যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক।

২০২১ সালে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দায়িত্ব পান সুজয়। এর আগে কোনও নির্বাচনেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সুজয়ের দাবি, অতীতের একাধিক নির্বাচন তিনি ‘ভোট ম্যানেজার’-এর দায়িত্ব সামলেছেন। এই প্রথম ভোটে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, ‘এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ করেন সুজয়। ফলে স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত মুখ।’ আর এই অঙ্কে সুজয়কে এগিয়ে রাখছে রাজনৈতিক মহল।

সম্প্রতি ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্লাবিত এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করতে সুজয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশ পেয়ে ঘাটাল এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যান সুজয়।

অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী করেছে পেশায় আইনজীবী শুভজিৎ রায়কে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই তিনি দিলীপ ঘোষের ‘আশীর্বাদ’ নিতে যান। শুভজিৎ ২০০৪ সালে মেদিনীপুর কলেজের বিদ্যার্থী পরিষদের ইউনিট প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। এরপর থেকে টানা তিনি বিজেপি শিবিরে থেকেছেন। দীর্ঘদিন তিনি RSS-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এখনও এলাকায় তিনি সঙ্ঘ-ঘনিষ্ট হিসেবেই পরিচিত।

তবে এটা তাঁর প্রথম নির্বাচনে লড়া নয়। এর আগে ২০১১ সালে তিনি মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ভোটে তৃণমূল প্রার্থী প্রয়াত মৃগেন্দ্রনাথ মাইতি সেই নির্বাচনে জয়ী হন, শুভজিৎ ছিলেন তৃতীয় স্থানে। শুভজিৎ পেয়েছিলেন মাত্র ৪ হাজার ৮৮০ ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষের বেশি। শুভজিৎ রায় বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও ২০১৭ এবং ২০২৩ সালে মেদিনীপুর পুরসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে কোনও নির্বাচনে জিততে পারেননি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের কথায়, ‘জেলা বিজেপির একাংশ দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন। দিলীপ অনুগামীদের ভোট ময়দানে সক্রিয় করা শুভজিতের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হতে পারে।’

যদিও মেদিনীপুর সংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুদাম পণ্ডিত দাবি করেছেন, শুভজিৎ এলাকায় পরিচিত মুখ। দিলীপ ঘোষ নিজেও সকলকে ভোটের ময়দানে নেমে কাজ করতে বলেছেন। ফলে দল যাঁকে মনোনীত করেছে তার জন্য বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর সকলেই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।

মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা অবশ্য বিজেপিকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ। তিনি দাবি করেছেন, মেদিনীপুরে জয় নিয়ে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version