জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গোটা প্য়ানেলটাই বাতিল। ফলে ২০১৬ সালের প্য়ানেলে যারা চাকরি পেয়েছিলেন তারা এখন চাকরিহারা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গেল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকার। আজ বিচারপতি বলেছেন গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই দুর্নীতিগ্রস্থ।
চাকরিহারা শিক্ষক প্রতাপ রায়চৌধুরী বলেন, আমাদের সামনে একটাই রাস্তা রয়েছে। সেটা হল মৃত্যুর রাস্তা। ওই রাস্তা এরাজ্যের বিরোধী দল দেখছে, ওই রাস্তা ওই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অ্যান্ড কোম্পানি ও ফিরদৌস শামিম দেখেছে। এরা পুরো প্য়ানেলটা বাতিল করতে চেয়েছিল। তারা তো খুব ভালোভাবেই জানে যে সবাই অযোগ্য নয়। আবার সবাই যোগ্যও নয়। সবাইকে বলি দিতে চেয়েছে সিপিএমকে এরাজ্যে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে।
Zee ২৪ ঘণ্টার সব খবরের আপডেটে চোখ রাখুন। ফলো করুন Google News
এনিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, কিছু আম পচা থাকলে তখন প্রাকৃতিক কারণে সবাইকেই বাতিল বলে গণ্য করতে হয়। কে যোগ্য, কে অযোগ্য তা নির্ণয় করার পদ্ধতি কোথায়? ওরা তো আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইনজীবী দিয়েছিলেন যাতে ওরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা পারেননি। ওঁদের বোঝা উচিত একটা প্রসেস যখন কালিমালিপ্ত হয়ে যায়, প্রসেসটার জন্মই যখন দুর্নীতির মধ্যে দিয়ে হয় তখন সেক্ষেত্রে কে ভালো কে মন্দ তা বাছাই করা যায় না। এটা আমাকে গাল দিয়ে লাভ নেই। আইনটাকে তো সবার উপরে রাখতে হবে! চাকরি পেয়েছেন ২৫ হাজার, আর বঞ্চিত হয়েছেন আড়াই লাখ। তাদের কথাও তো ভাবতে হবে।
আরও পড়ুন-বৃষ্টিতে তোলপাড় হবে দক্ষিণের একাধিক জেলা, বইবে ৪০ কিমি বেগে ঝড়
আরও পড়ুন-হাইকোর্টের রায়ই বহাল, বাতিল ২৬ হাজার জনের চাকরি, SSC-র পুরো প্যানেল খারিজ…
উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬ সালের প্যানেলের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। এবার সেই মামলার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বহাল থাকল হাইকোর্টের রায়। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। তিন মাসের মধ্যে ফের নতুন নিয়োগ করতে হবে। এমনটাই নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। ২০১৬ সালের SSC-র শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট সেই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। এর ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ এই মামলার শেষ শুনানি হয়েছিল। তারপর আজ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)