জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চলতি লিডস টেস্টে ভারত এবং ইংল্যান্ড (ENG vs IND) মিলিয়ে ভূরি ভূরি ক্যাচ নষ্ট করেছে (Multiple Catch Drops At Headingley)। যেন ফস্কানোর প্রতিযোগিতা চলেছে বিগত চারদিন ধরে। ভারত ৬টি ক্যাচ মিস করেছে, ওদিকে ইংল্যান্ডের পক্ষে ৪টি! দুই দলই পাল্লা দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের লাইফলাইন দিয়েছেন।

এখন অনেকেরই প্রশ্ন, ১৮৯০ সালে তৈরি হওয়া হেডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কেন এত ক্যাচ নষ্ট হচ্ছে? হেডিংলি ফিল্ডারদের কাছে বড় রকমের ‘হেডেক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ইংল্যান্ডের শতাব্দী প্রাচীন মাঠের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দিলেন প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক (Alastair CooK) ও ব্রিটিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড (Stuart Broad)। দুই ক্রিকেটারই বহুবার এই মাঠে খেলেছেন। হেডিংলি চেনেন হাতের তালুর মতো। 

আরও পড়ুন: রাহুল-ঋষভের জোড়া সেঞ্চুরিতে রেকর্ডের ছড়াছড়ি, লিডসে ইংরেজদের ‘ধোবি পছাড়’ ভারতের…

হেডিংলি নিয়ে কুকের ব্যাখ্যা

বিবিসির-র এক অনুষ্ঠানে কুক বলেছেন, ‘খেলার শেষে বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে আমরা শুনেছি যে, এটি হেডিংলি কঠিন মাঠ। অলি পোপও এই কথা বলেছেন। স্লিপ কর্ডনে পাঁচটি ক্যাচ পড়েছে। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি, ঠিক সেখানেই খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের তৈরি করা চিহ্নও রয়েছে। আমার মনে হয় এর সম্ভবত দুটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। প্রথমেই বলব যে, আমি মাঠের ঢালের বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নই, খেলোয়াড়রা ঢালের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। আমরা যেখানে আছি তার ঠিক উপরে পেছনের স্কোয়ার বেশ অনেক দূরে, তাই ফিল্ডার কোন দিকে যাচ্ছে তার প্রভাব পড়বে। আমি মনে করি ক্যাচ নষ্টের মূল কারণই হচ্ছে হেডিংলির স্ট্যান্ডগুলি। সেখানে একটি কালো রেখা আছে, সত্যিকারের গাঢ় কালো রেখা, এবং যদি বলটি সেখানে যায়, খেলোয়াড়রা ক্যাচ নষ্ট করতে পারে। ওখানে বল গেলেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ক্যাচ ধরার সময়ে দৃঢ়-শক্ত হাতের যেমন প্রয়োজন, তেমনই শরীরকে রিল্যাক্সড রাখতে হবে। তাই খেলোয়াড়রা দিকভ্রষ্ট হয়ে বলটি কোথায় গেল ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আর তখনই হাতে বিদ্যুত্‍ খেলে যায়।’

হেডিংলি নিয়ে ব্রডের ব্যাখ্যা

স্কাই স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে ব্রড বলেছেন, ‘দেখুন আমি খেলছি না ঠিকই, এমনকী আমার বোলিং থেকেও ক্যাচ আসছে না। ফিল্ডারদের ক্যাচ নষ্টের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। হেডিংলি এমনই এক মাঠ যেখানে বল দেখা কঠিন। স্ট্যান্ডের দিকে বল গেলে ফিল্ডাররা ক্যাচ নষ্ট করতে পারে। আর যখন মেঘ থাকে, তখন বেশ কিছুটা অংশ একটু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কেবল ০.১ সেকেন্ডের জন্য দৃষ্টি হারালেই ফিল্ডাররা চাপে পড়ে যায়। হেডিংলিতে ক্যাচ ধরা বেশ কঠিন হয়ে যায় সত্যি বলতে। আরও কঠিন করে দেয় দর্শক। যখনই একটু ঠান্ডা পড়ে, তখনই তাঁরা বিভিন্ন রঙের কোট পরে থাকেন স্ট্যান্ডে। এরসঙ্গে কয়েকটি খালি আসন থাকে! সব মিলিয়েই বিষয়টি কঠিন হয়ে যায়। আর যখন সূর্য ওঠে না, তখন মেঘ থাকে। তখন মাঠের কিছু অংশে অন্ধকারে ডুবে যায়।’ বোঝাই যাচ্ছে যে ফিল্ডারদের দোষ দেওয়ার আগে কিছু জিনিস মাথায় রাখতেই হবে।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে অটো পাইলটে বিমান, জেনেলিয়ার সঙ্গে আদিম খেলায় বিরাট! কেঁপে গেল বাকিদের সিট…

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version