জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কোচবিহারের দিনহাটার সাদিয়ালের কুঠির বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে এনআরসি নোটিস (NRC Notice)। ফুঁসে উঠলেন মমতা। ‘অসমের বিজেপি সরকার বাংলায় এনআরসি চাপানোর চেষ্টা করছে!’ ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata on NRC Notice)। কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এনআরসি-র নোটিস ধরিয়েছে (Assam NRC Notice to Dinhata Man)। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী কড়া আক্রমণ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে (BJP Government)।

ফেসবুক পোস্টে মমতা লিখেছেন, ‘আমি এটা জেনে অত্যন্ত হতবাক ও  বিচলিত হয়েছি যে, কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে এনআরসি নোটিস দিয়েছে অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। অথচ গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাংলার-ই বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের চাঁছাছোলা তোপ, ‘এটা গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ভিন্ন আর কিছুই নয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক নোংরা চক্রান্ত চলছে। এটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার যে, বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।’

ওদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র জবাবের পর অবশেষে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত অসম থেকে এনআরসি-র নোটিস পাওয়া দিনহাটার সাদিয়ালের কুঠির বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসী। উত্তম জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করায় প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর হয়েছে। এতদিন তাঁর জাতিগত শংসাপত্র না থাকায়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তা তৈরি করে দিচ্ছে প্রশাসন। এবার সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

অপরদিকে এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বংশপরম্পরায় চার পুরুষ ধরে দিনহাটার সাদিয়ালের কুঠি গ্রামে বসবাস উত্তম ব্রজবাসীদের। এলাকার সবাই ব্রজবাসী। তাই পাড়ার নাম বৈরাগী টারি। কোনওদিন অসমে যাননি। এদিকে তাঁর কাছেই অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের NRC নোটিস! এলাকার ছেলের নামে নোটিস আশায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসীও। তাঁদের কথায় উত্তম এলাকায় যথেষ্ট আর্থিকভাবে সচ্ছল। তাঁরা দুই ভাই। উত্তমের বাবা একসময় নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানও হয়েছেন। তাই তাঁদের নামে কী করে এই নোটিস আসে!





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version