অরূপ লাহা: লাগাতার বৃষ্টি চলছে (Heavy Rain) দেড় মাস ধরে। তারই ফলে শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। জেলার দক্ষিণ দামোদরের (Damodar River) বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি এখন কার্যত জলের তলায়। সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারাগুলি বৃষ্টির জলে ডুবতে বসেছে। পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার মুখে বীজতলাও।

আরও পড়ুন: New UPI Rules from Today August 1: UPI-তে পেমেন্ট করেন? তাহলে আপনাকে জানতেই হবে ১ অগাস্ট থেকে এতে কী বড় বদল এল, না হলে…

টানা বৃষ্টি

জামালপুর, রায়না ১ ও ২, খণ্ডঘোষ– এই চার ব্লকের বহু প্রান্তিক অঞ্চলে একই পরিস্থিতি। মাঠের দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই, কোথায় নদী আর কোথায় ফসলের জমি। টানা বৃষ্টির জেরে জল বেরোনোরও কোনও পথ নেই, যার ফলে জমা জলে নষ্ট হতে বসেছে চারা ধান ও বীজতলা। কৃষকরা জানান, আষাঢ় মাসের শুরুতেই বীজ ফেলা হয়েছে। এখন বীজ বেশ বড় হয়ে উঠেছে। অথচ এত জলে আমরা রোপণের কাজ শুরুই করতে পারছি না। তাঁরা আরও জানান, ডিভিসির ক্যানেল থাকায় কিছুটা জল বেরোচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতে মোটেই পর্যাপ্ত সুরাহা হচ্ছে না।

আশঙ্কায় কৃষকেরা

আবহাওয়া দফতর থেকে আরও চার থেকে পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে চিন্তা আরও বেড়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এইভাবে জল জমে থাকলে আমন চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। জেলা কৃষি আধিকারিক অমরকুমার মণ্ডল  জানান, জুলাই মাসে গড় বৃষ্টি হয় ২৭৩ মিলিমিটার। কিন্তু এবছর জুলাইয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৯০.৩ মিলিলিটার। অর্থাৎ, ৮১.৭৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে জুলাই মাসে। এবছর জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা আছে ৩ লক্ষ ৭৭ হেক্টর। এখনো পর্যন্ত ধান রোওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ৮৬.৮৩২ হেক্টর জমিতে। শতাংশের বিচারে ৬৮ শতাংশ জমিতে রোওয়ার কাজ হয়েছে।  অন্য দিকে, কৃষি আধিকারিক জানান, অতি বর্ষণে জেলার পাঁচটি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জামালপুর, রায়না ১ নম্বর,রায়না ২ নম্বর,খণ্ডঘোষ ও গলসি ২ নম্বর ব্লকের ধান চাষে ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ ক্ষতি হয়েছে। আমন চাষে ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ২৭২ হেক্টর জমিতে।

আরও পড়ুন: Bengal Weather Update: উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত! আগামী ৫ দিন প্রবল বর্ষণে ভাসবে সারা বাংলা! অবিরাম বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই কবে?

ডিভিসি

জানা গিয়েছে, এবার ডিভিসি নাগাড়ে জল ছেড়েছে। শুধু তাই নয়, জল ছাড়ার পরিমাণ কিছুটা বাড়ালও তারা। মাইথন ও পাঞ্চেত দুই জলাধার থেকেই মোট প্রায় ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া শুরু করল ডিভিসি। মাইথন থেকে ১৮ হাজার ৭০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭ হাজার ৪০০ কিউসেক জল ছাড়া শুরু হল শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে। নদী তীরবর্তী এলাকায় এখনও সতর্কতা জারি রয়েছে। দামোদর নদীর উচ্চ অববাহিকায় অর্থাৎ, ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জলাধারে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ায়।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version