জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তিনি ছিলেন এক অসাধারণ শিল্পী! সবুজ ক্যানভাসে তুলির মতো ব্যাট বুলিয়ে দিতেন। তাঁর কব্জির মোচড়ে এক ফালি উইলোর ঘোরানো ছিল যেন জাদুছড়ি! যাঁরা তাঁর খেলা দেখেছেন, তাঁরা কখনই ভুলতে পারবেন না। হাউসপেইন্টারের মাঝে মাইকেলেঞ্জেলোর লেগ সাইড-প্লে মনে করায় জাহির আব্বাস ও গ্রেগচ্যাপেলকে। কথা হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন বিতর্কিত অধিনায়ক ও চরম স্টাইলিশ ব্যাটার মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে (Mohammad Azharuddin)।
আজহার এবার মন্ত্রী!
আজহারউদ্দিন ক্রিকেটারের পরিচয় ছেড়ে এসেছেন ২৫ বছর আগেই। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা তাঁর। সেই বছর হাতশিবিরের টিকিটে মোরাদাবাদ থেকে লোকসভা আসনেও জিতেছিলেন তিনি। ৬২ বছরের হায়দরাবাদি এবার শুরু করছেন নতুন ইনিংস। তেলঙ্গনার মন্ত্রী হিসেবে আগামী শুক্রবার নিচ্ছেন শপথ। ক্যাবিনেটে পা রেখে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্য সরকারে ঢুকছেন আজহারউদ্দিন।
আরও পড়ুন:১৪ বছরের সম্পর্ক শেষ করছেন ‘মুম্বইচা রাজা’, নীতার সংসার ভেঙে শাহরুখের ঘরে রোহিত!
ভেবেচিন্তেই আজহার!
দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনাধীন এই পদক্ষেপের লক্ষ্যই হল মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের মুসলিম প্রতিনিধিত্বের অভাব ঘোচানো। যদিও এটি রাজনৈতিক ভাবে কৌশলগত মুহূর্তেই এসেছে। যেখানে দলটি আগামী ১১ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ জুবিলি হিলস উপনির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের সমর্থন একত্রিত করার চেষ্টায়। কারণ ভোটব্যাংক সংখ্যালঘুরাই। অতীতে আজহারউদ্দিন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তেলঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (টিপিসিসি) কার্যকরী সভাপতি তিনি। সম্প্রতি রাজ্যপাল কোটায় আইন পরিষদে (এমএলসি) মনোনীত হওয়ায় তাঁর মন্ত্রীর পথ প্রশস্ত করেছে। রাজ্যপালের কোটায় মন্ত্রী হচ্ছেন আজহারউদ্দিন।
কংগ্রেসের চাল!
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী আনুমুলা রেবন্ত রেড্ডি ওরফে রেবন্ত আন্নার নেতৃত্বে, কংগ্রেস সরকার মন্ত্রিসভায় একজন মুসলিম মন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বিরোধী দলগুলির ক্রমবর্ধমান তদন্ত এবং চাপের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সকল গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম প্রার্থীই হেরে গিয়েছিলেন। যার ফলে রাজ্যের সর্বোচ্চ নির্বাহী স্তরে এই সম্প্রদায়ের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আজহারউদ্দিনের পদোন্নতিকে তাই একটি প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের শান্ত ও সম্পৃক্ত করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে হায়দরাবাদে, যেখানে দল তার স্থানীয় শিকড় এবংপাবলিক প্রোফাইলকে পুঁজি করে তুলতে চাইবে। আজহারউদ্দিনের অন্তর্ভুক্তির ফলে রেবন্ত রেড্ডির মন্ত্রিসভার সংখ্যা ১৬-তে উন্নীত হবে, যা সর্বোচ্চ ১৮ জন মন্ত্রীর কাছাকাছি চলে যাবে!
জুবিলি হিলসেই চোখ
জুবিলি হিলস উপনির্বাচনের প্রচারণা তীব্র হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগেই, আজহারউদ্দিনের নাম ঘোষণা রাজনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। বিআরএস বিধায়ক মাগন্তী গোপীনাথের জীবনাবসানের জন্যেই ১১ নভেম্বর জুবিলি হিলস বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা। ২০২৩ সালের তেলঙ্গনা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে এই গোপীনাথের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আজহারউদ্দিন। জুবিলি হিলস একটি শহুরে, সামাজিকভাবে বৈচিত্র্যময় এবং উচ্চ-প্রোফাইল আসন যেখানে মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। যা মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ভারতের ২১ ODI-র ঠাসা সূচি, কবে কখন কোথায় দেখবেন রো-কো জুটিকে
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)