অরূপ লাহা: তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। নাম বিমল সাঁতরা। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। গত ২৬ অক্টোবর তামিলনাড়তে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃতের ছেলে বাপি সাঁতরার দাবি, SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন বাবা। সেই চিন্তা থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শনিবার তামিলনাড়ু থেকে বিমল সাঁতরার মরদেহ এসেছে জামালপুরের বাড়িতে। তাঞ্জাভুরের একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে। সেখানকার পুলিসের নথি থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৬ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বিমল সাঁতরা। কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর গত বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। বর্ধমান জেলা প্রশাসনের সহায়তায় শনিবার সন্ধায় মরদেহ ফিরেছে জামালপুরে।
মৃতের ছেলের দাবি, বাবা ধান রোয়ার কাজ করতে তামিলনাড়ুতে গিয়েছিলেন। এসআইআর ঘোষণার পর বাবা চিন্তায় ছিলেন। এসআইআর হলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কি না, সে নিয়ে চিন্তা করতেন। ওই আতঙ্কেই বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন।
মৃত বিমল সাঁতরার ছেলে বাপি সাঁতরার কথায়, এখানে কাজকর্ম সেরকম ছিল না। তামিলনাড়ুতে গিয়ে কাজকর্ম করছিল। ওখানেও কাজ কম হচ্ছিল। আর এখানে SIR চালু হওয়ার পর থেকেই খুব টেনশনে পড়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্যার নিয়ে একটা টেনশন ছিল। ভোটার লিস্টে নাম আছে কিনা তা নিয়ে চিন্তা করত। হাসপাতালে যখন বাবা ভর্তি হয় তখনই আমাদের বিধায়ককে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। ওঁর সহায়তায় ওখানে যেতে পেরেছিলাম।
আরও পড়ুন-SIR-এ ‘মতুয়াদের ৯৫ শতাংশ নাম কাটা যাবে!’, আমরণ অনশনে মমতাবালা
আরও পড়ুন-টানা ১৬ বছর ধরে মরা বাবার পেনশন তুলে গেলেন ছেলে, ধরা পড়লেন নাটকীয় ভাবে…
বিমলবাবুর মৃত্যু নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক অলোক মাঝির দাবি, প্রায় আড়াই বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। সে কারণে ধান রোয়ার জন্য ভিন রাজ্যে কাজে যাচ্ছেন। এসআইআর নিয়ে উনি (বিমল) ভয়ে ছিলেন। চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
বিজেপির জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। এসআইআর এর জন্য নয়।অন্য কারণে মৃত্যু হয়েছে।তৃণমূল পায়ের তলার মাটি হারিয়ে উল্টোপাল্টা বলছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রধান চন্দ্র পাল বলেন, হাস্যকর ব্যাপার। তৃণমূল ভুলভাল বকে। এসআইআর একটা নাগরিকত্বের অধিকার। নির্বাচন কমিশন প্রতি মূহুর্তে এমনসব তথ্য আপডেট করছে যাতে কোনও মানুষ হয়রানির শিকার না হন। কে কোন পরিস্থিতিতে মারা যাচ্ছে তার ঠিক নেই। তৃণমূল অনেক কথাই বলছে। কাল শ্মশানে এসে বসে থাকবে। বলবে এটাও এসআইআর এর জন্য মারা গিয়েছে। আদৌ বিষয়টি সেটা নয়। উনি হয়তো অন্য কোনও রোগের কারণে মারা যেতে পারেন। যারা এসআইআরের কারণে মৃত্যু বলছেন তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই অনেক কথা বলছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)