বরুণ সেনগুপ্ত: এসআইআর (SIR) ক্রমে ত্রাস হয়ে উঠছে মানুষের মনে। ঝরে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ। এবার চাঞ্চল্যকর ঘটনা বেলঘরিয়ার সিসিআর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। ভোটার তালিকায় নাম নেই জানার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ অশোক সর্দার (Ashok Sardar)। কামারহাটি পৌরসভার প্রফুল্ল নগর লো ল্যান্ডের বাসিন্দা! পেশায় রিকশাচালক। ২০০২-এর ভোটার লিস্টে নাম ছিলনা! সেই নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরেছিলেন বেশ কয়েকদিন ধরে। অনেক জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছেন কাগজের জন্য। কিন্ত কোন ফল হয়নি।
পরিবারের দাবি, রাতে বেলঘরিয়া দমদমের মাঝের সিসিআর ব্রিজ এর কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন ওই প্রৌঢ়! ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত অবস্থায় আর জি করে চিকিৎসাধীন! দুটি পা কাটা গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
SIR আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত বাংলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ জন। অনেকে অসুস্থ ও আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঠিক যেমন অবস্থা গুরুতর আহত অশোক সর্দারের। আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Medical College and Hospital) ভর্তি তিনি। একটি পা বাদ দিতে হয়েছে।
২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম ছিল না বছর ৬৩-র অশোক সর্দার এবং তাঁর স্ত্রীর। তা জানার পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল বৃদ্ধের মনে। দেশ থেকে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে না তো? এই আশঙ্কায় শেষে কাল ডেকে আনল। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
তড়িঘড়ি বাংলায় এসআইআর করতে গিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে এসআইআরের কাজ শেষ করতে গিয়ে বিএলওদের উপর অমানবিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বিএলওরাও আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী এইসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত এসআইআর বন্ধ হোক। এভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না।
গতকালই আমাদের খবরে দেখানো হয়েছে, ভয়ে দেশ ছাড়ার হিরিক। কেউ ভারতে কাটিয়েছেন ৫ বছর। কেউ বা তারও বেশি। কেউ ১০ বছর ধরে অবৈধভাবে ভারতেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু এবার SIR শুরু হতেই বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের ধরা পড়েছে এমনই ছবি। SIR-আতঙ্কে ফের বাংলাদেশিদের ভারত ছাড়ার হিড়িক। সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যেতে হাকিমপুর সীমান্তে শয়ে শয়ে বাংলাদেশির ভিড়। এদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিরাটি, মধ্যমগ্রাম, রাজারহাট, নিউটাউন, সল্টলেক এলাকায় পরিচারিকা, দিনমজুর এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দিন গুজরান করতেন। কেউ আবার চালাতেন Rapido বাইক! কেউ কাগজ কুড়ানোর কাজও করতেন! কিন্তু SIR-আতঙ্কে এখন সবাই চায় বাংলাদেশে ফিরতে। ব্যাগপত্র গুছিয়ে, পুঁটুলি বেঁধে গোটা ‘সংসার’ মাথায় নিয়েই সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা।
কেউ কেউ নিজ মুখে স্বীকারও করে নিচ্ছেন যে, তাঁরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। মাত্র ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে দালাল ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন তাঁরা। তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। আইনগতভাবে তাঁরা অবৈধ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
