রাজীব চক্রবর্তী:  ছাব্বিশের বিধানসভা (West Bengal aseembly Election 2026) ভোটে বাংলায় রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central force in Assembly election) চায় কমিশন, দিল্লিতে হাইভোল্টেজ বৈঠক প্রতিনিধিদের।

Add Zee News as a Preferred Source

আর মাত্র মাস চারেকের অপেক্ষা। চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও, বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কোমর বেঁধে নামছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

সূত্রের খবর, গত ভোটের তুলনায় আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর আবেদন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। অতীতে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে রাজ্যে নির্বাচনে, কত সংখ্যক রাজ্য পুলিশের বাহিনী রয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বৈঠকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কতটা কেন্দ্রীয় বাহিনী পেতে পারে কমিশন? তা নিয়েও কাল বৈঠকে আলোচনা হবে।

 

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে দফা হ্রাস করা হবে কি না তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাহিনী প্রয়োজন বলে পশ্চিমবঙ্গের তরফে জানানো হয়েছে। মোট সংবেদনশীল বুথের সংখ্যা কত হবে তার নিরিখেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা চূড়ান্ত করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুড়িচেরির নির্বাচনী আধিকারিকরা উপস্থিত আছেন বৈঠকে। 

সোমবার নয়াদিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বাহিনীর সংখ্যা ও দফার সমীকরণবৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্য পুলিসের নোডাল অফিসার। 

সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার আবেদন জানিয়েছেন সিইও। মূলত বাংলায় ভোটের ‘দফা’ কমানো হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যদি দফা কমানো হয়, তবে একই সময়ে অনেক বেশি সংখ্যক বাহিনীর প্রয়োজন পড়বে—এই যুক্তিই পেশ করা হয়েছে কমিশনের কাছে।

২০২১ বনাম ২০২৬ (সম্ভাব্য) নির্বাচনী রূপরেখা

বিষয় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন (পরিকল্পনা)

মোট আসন ২৯৪২৯৪

ভোটের দফা-৮ দফা তবে, তা কমানোর পরিকল্পনা চলছে।

নিরাপত্তা পর্যায়ক্রমিক কেন্দ্রীয় বাহিনী এককালীন অধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী

নজর যখন স্পর্শকাতর বুথে

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ের আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। কমিশন সূত্রে খবর, সংবেদনশীল বুথের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারিত হবে। 

বাহিনীর রুট ম্যাপ এবং স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজ এখন থেকেই শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।রাজনৈতিক চাপানউতোরকেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্য়েই চর্চা শুরু হয়েছে।

বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কমিশন বাহিনী ঠিক করবে, তবে আমাদের দাবি পর্যাপ্ত বাহিনী যেন থাকে।’ 

প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, বাহিনী যেন শুধু বাইরে না থেকে বুথের ভেতরেও মোতায়েন থাকে যাতে ভোট লুঠ রোখা যায়।

তৃণমূল: তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘একুশেও তো বাহিনী ছিল। যত খুশি বাহিনী আসুক, বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।’ আগাম প্রস্তুতির লক্ষ্যমুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম এবং পুদুচেরীর নির্বাচনী আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

২০২৬ সালের ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও হিংসামুক্ত রাখাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। আগামী দিনে কত কোম্পানি বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিতে পারবে, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হবে।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নজরদারি
এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা, স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ বাহিনী চলাচলের রুট ম্যাপ এবং ভোটগ্রহণের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বলে কমিশন সূত্রে খবর ।

বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি নিয়ে এখন থেকেই সক্রিয় কমিশন।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version