জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নীতা আম্বানির (Nita Ambani) মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) মধ্যে যে কোনোও লিগের যে কোনও ম্যাচই ‘এল ক্লাসিকো’(El Clasico)। এমনকী সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এস২০ (SA20) লিগেও এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই বিশেষ নামের আওতায়। এমআই কেপ টাউন (MI Cape Town) বনাম সিএসকে-র সিস্টার টিম জোবার্গ সুপার কিংসের (Joburg Super Kings) ম্যাচটি অন্যতম রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ হয়ে উঠল।
চর্চায় পুরান
৭ জানুয়ারি, গত মঙ্গল সন্ধ্যায় নিউল্যান্ডসের কেপটাউনে লিগের ১৫ নম্বর ম্যাচে আম্বানির এমআইসিটি (MICT) জেএসকে-র (JSK) মুখোমুখি হয়েছিল। এমআইসিটি-র ডিএলএস মেথডে নাটকীয় ৪ উইকেটে জেতার ম্যাচে, সিংহের দেশে স্টার হয়ে গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার নিকোলাস পুরান (Nicholas Pooran)। আগুনে গর্জন করলেন টি-২০ ক্রিকেটের মারকুটে স্টার।
আরও পড়ুন: ‘সত্যি নয়’! দেশের জনপ্রিয় সুন্দরী অ্যাংকার মুখ খুললেন! অশান্ত বাংলাদেশই কি তাঁকে…
পুরানের তাণ্ডবলীলা
নীতার দল টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করেছিল। জেএসকে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৩ রান তুলতেই সমর্থ হয়েছিল। অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিসের ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংসই জেএসকে-র সর্বাধিক। রান তাড়া করতে নেমেছিলেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও রায়ান রিকলটন। ওপেন করতে নেমে রায়ান ৬ বলে ৫ রান করে ফিরে যান। তিনে নেমে শুরু হয় পুরান-কাহিনি। ২২০-র স্ট্রাইক রেটে পুরান ১৫ বলে ৩৩ করলেন ৫ ছক্কায়। মানে ৩০ রানই তাঁর আসে ওভার বাউন্ডারিতে। জেএসকে-র বোলারদের মেরে তক্তা করে দিয়েছেন তিনি। পুরানের প্রতিটি ছয় প্রতিটি ছক্কা তাঁর আগেরটির চেয়ে বড় ছিল! এবং রিচার্ড গ্লিসনের বলে পুরানের মারা বিশাল ছক্কাটি মেম্বার্স স্ট্যান্ডের উপরের স্তরে গিয়ে পড়েছিল। যা প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিতে দীর্ঘকাল অমলিন থাকবে।
গোয়েঙ্কার পুরান
আসন্ন আইপিএলে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার লখনউ সুপার জায়ান্টস ২১ কোটি টাকায় পুরানকে ধরে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ডিপ কভার বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, যার ফলে ভ্যান ডার ডুসেনকে (২৪ বলে ৩৫ রান, ৩টি ছক্কা) পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। এরপর জেসন স্মিথ মাত্র ছ‘বলে বাউন্ডারিতে ভরপুর ২২ রান করে এমআইসিটি–কে জয়ের দুয়ারে নিয়ে আসেন এরপর করিম জানাত চার বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন।
আবহাওয়ার পাগলামি
খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়, এরপর জেএসকে তাদের ইনিংস শুরু করে। ফাফ ডু প্লেসিস তাঁর নতুন ওপেনিং পার্টনার জেমস ভিন্স শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন এবং মাত্র ২.৪ ওভারে ৩২ রানের জুটি গড়েন। এরপর ভিন্স (৯ বলে ১৫ রান, ২×৪, ১×৬) জর্জ লিন্ডের বলে কভারে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ফাফ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি বিধ্বংসী মেজাজে আছেন, দ্বিতীয় ওভারে এমআইসিটি-র প্রধান বোলার কাগিসো রাবাদাকে পরপর চারটি বাউন্ডারি মারেন এবং ভিন্সের আউটের পরেও জেএসকে-র রানের গতি ধরে রাখেন। ডু প্লেসিস চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মেরে জেএসকে-কে ৬৯/২ স্কোরে পৌঁছে দেন, এরপর আবারও বৃষ্টি শুরু হলে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।
আরও পড়ুন: ভারতেই খেলতে হবে বিশ্বকাপ! নাহলে চরম পরিণতি, ICC-র ‘আল্টিমেটাম’ নিয়ে এবার BCB…
সেরা ‘নিকি পি‘
দ্বিতীয় দফায় খেলা ৭৫ মিনিট বন্ধ থাকে, যার ফলে ম্যাচটি ইনিংস পিছু ১২ ওভার করে কমে। ডু প্লেসিসের (২১ বলে ৪৪ রান, ৭×৪, ২×৬) আউট হয়ে যাওয়ার সঙ্গেই জেএসকে-র রানের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। করবিন বশ (৩/২৪) এবং রশিদ খানের (২/৩২) হাত ধরে ম্যাচে ফিরে আসে জেএসকে। কিন্তু কেবল ম্যাথিউ ডি ভিলিয়ার্সই (১৫ বলে ২১ রান, ৩×৪) জেএসকে-কে ১২৩/৭ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন, যা সেই রাতে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচ সেরার জন্য চারজন প্রার্থী ছিলেন বশ, ডু প্লেসিস, রশিদ এবং নিকোলাস পুরান, যেখানে ‘নিকি পি‘ ভক্তদের ভোটের ৫৯.৭ শতাংশ পেয়ে ম্যাচ সেরা হন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
