পিয়ালী মিত্র: সিঙ্গুরে সভা মানেই সেখানে শিল্প প্রসঙ্গ আসবেই। কিন্তু রবিবার সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর হাই ভোল্টেজ সভায় এল না শিল্প প্রসঙ্গ। বরং নরেন্দ্র মোদী সাফ জানিয়ে দিলেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলেই তবেই বিনিয়োগ আসবে। এখানে সবকিছুতেই সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। 

Add Zee News as a Preferred Source

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে রাজ্য নেতারা যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন তারা বারেবারেই শিল্পের কথা বলছিলেন। এ দশকেরও বেশি সময় আগে সিঙ্গুর থেকে চলে গিয়েছিল টাটারা। ফলে সিঙ্গুরের মানুষ বা রাজ্যবাসীর একাংশের একটা আশা ছিল, হয়তো প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে কোনও বার্তা দিতে পারেন। কিন্তু তাঁর ৪০ মিনিটের ভাষণে তার লেশমাত্র ছিল না। বরং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উঠে এলে অনুপ্রবেশ ইস্যু, রাজ্যে জঙ্গলরাজের প্রসঙ্গ। পাশাপাশি তিনি অবশ্য বললেন, আলু শিল্প, পেঁয়াজ শিল্প, ধনেখালির শাড়ি শিল্পের কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই একটাই আশা নিয়ে এসেছে যে আসল পরিবর্তন চাই। সবাই ১৫ বছরের মহা জঙ্গলরাজতে পরিবর্তন করতে চায়। এনডিএ বিহারে জঙ্গলরাজকে আটকেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে মহা জঙ্গলরাজকে পরিবর্তন করতে তৈরি হবে। এমন একটা সময় সিঙ্গুরে এসেছি যখন দেশে বন্দেমাতরম ১৫০ বছর পালন হচ্ছে। পুরো সংসদ,দেশ বঙ্কিম চন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। হুগলির সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের যোগ আলাদা। এখানেই তিনি বন্দেমাতরমকে পূর্ণ রূপ দিয়েছিলেন। বিজেপি সরকার দিল্লিতে ইন্ডিয়াগেটের সামনে সুভাষবাবুর প্রতিমা লাগিয়েছে। আন্দোমান নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নাম রাখা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি কর্মসূচি আগে ২৪/২৫ তারিখ শুরু হতো। আমরা তা পরিবর্তন করে ২৩ জানুয়ারি সুভাষবাবুর জন্মদিনে শুরু করে গান্ধীর ২ অক্টোবর শেষ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন- কবে সরস্বতী পুজো, ২৩, না ২৪ জানুয়ারি? বসন্ত পঞ্চমীর একটা গভীর তাৎপর্য আছে, না জানলে…

আরও পড়ুন-কোথায় ব্রিগেড! বেলডাঙার মেঠো জমিতেই হুমায়ূনের সভা, ৩১ জানুয়ারিই বন্ধ করবেন দলের সঙ্গে জোটের দরজা

পশ্চিমবঙ্গের সম্পদের কথা টেনে এনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাংলায় বড় বড় নদী আছে। কোস্টাল আছে। প্রতি জেলায় কিছু কিছু বিশেষ জিনিস আছে । এখানে মানুষ বুদ্ধিমান। বিজেপি প্রতি জেলায় প্রোডাক্ট নীতিকে উৎসাহিত করবে। জুট শিল্প উৎসাহিত করা হবে। হুগলিতে আলু, পিঁয়াজ প্রচুর চাষ হয় । পৃথিবীতে সব্জির বড় চাহিদা আছে। গোটা পৃথিবীর বাজারে ভারতের উৎপাদিত সব্জি পাঠানো ইচ্ছা রয়েছে। মা ও মহিলাদের সবরকম সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু এখানে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের প্রকল্প আপনাদের কাছে পৌঁছতে দেয় না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কিভাবে তৃণমূল শত্রুতা করছে শুনুন। এখানে যত মাছ উৎপাদন হয় তার থেকে বেশি হওয়ার ক্ষমতা আছে। দেশের মৎস্যজীবীরা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সব রাজ্যের সরকার সেখানে মৎস্যজীবীদের রেজিস্টার করেছে। কিন্তু তৃণমূল করেছে না। অফিসারদের তো পড়তে দিন। এরফলে মৎস্যজীবীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই তৃণমূল সরকারকে সাজা দেওয়া উচিত কিনা?

দেশের সুরক্ষার কথা টেনে এনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, এরা দেশের সুরক্ষার সঙ্গে খেলা করছে। সেই কারণে এখানে যুব সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের সব সুবিধা দেয় এরা। তাদের বাঁচানো র জন্য ধর্না দেয় । কারণ তারা এদের ভোট ব্যাঙ্ক । তাদের বাঁচানোর জন্য যে কোনো সীমা পর্যন্ত যেতে পারে। বর্ডারে জন্য জমি চেয়ে বারবার চিঠি চেয়ে কাজ হয়নি । অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি বানিয়ে দেয়। তাদের আটকাতে হবে। যারা এখানে এসে মিলে মিশে রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে দেশে পাঠাতে হবে । সেই কাজের জন‍্য বিজেপি ভোট দেওয়া জরুরি। 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version