জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) প্রাথমিক দল ঘোষণা করেও নাকি সলমান আঘারা প্রস্তুতি বন্ধ করে দিয়েছেন! ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) চলমান অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে সরে আসার কথা ভাবছে ভারতের শত্রুদেশ! একাধিক পাক মিডিয়ায় এমন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এক স্পোর্টস ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন বলছে, আটারির ওপারের দেশের বিশ্বকাপ বয়কটের কোনও ইচ্ছাই নেই। তারা ভীষণ ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। ভারতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলা নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছে। তবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান মোটেই বিশ্বকাপ থেকে সরে আসছে না।
আরও পড়ুন: জল্পনার অবসান, আশঙ্কাই সত্যি! সরানো হচ্ছে বিরাট-রোহিতকে! তোলপাড় ভারতীয় ক্রিকেট…
পাকিস্তানের সাফ কথা
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ওই ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘ভারতে বিশ্বকাপ বয়কটের অবস্থান নেয়নি পিসিবি। সূত্র ব্যাখ্যা করেছে যে, ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করার পর, ২০২৫ সালের শুরুতেই চূড়ান্ত হওয়া টুর্নামেন্টের পূর্ববর্তী চুক্তি অনুসারে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। তাই বিশ্বকাপ থেকে সরে আসার কোনও কারণ পিসিবির নেই। সূত্র আরও বলেছে, ‘পাকিস্তানের এমন করার কোনও কারণ নেই, কারণ আইসিসি তখন বলবে যে, পাকিস্তান তো ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ খেলছে। লোকেরা শুধু বিষয়টি উস্কে দেওয়ার জন্য এমন কথা ছড়িয়েছে।’ এর আগে পাক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছিল যে, আইসিসির সঙ্গে বিরোধের মধ্যে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সমর্থনের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যখন বিসিসিআইয়ের নিদানে কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর সেখান থেকেই অচলবস্থার শুরু।
আইসিসি-র আল্টিমেটাম বিসিবি-কে
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দফায় দফায় চিঠি লিখে অনুরোধ করে, যে তাদের নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হোক। গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা বাংলাদেশের ম্যাচগুলি মুম্বই ও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবি তাদের খেলোয়াড়, কর্মী এবং কর্তাদের জন্য ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষা’ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করলেও, আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। আইসিসি ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে হুমকির মাত্রা ‘শূন্য থেকে নগণ্য’ বলেই মূল্যায়ন করেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে বুধবার পর্যন্ত ডেডলাইন আইসিসি-র! আর বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বকাপ থেকেই ঘ্যাচাং ফু…
একগুঁয়ে বিসিবি
পরবর্তীতে বিসিবি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দেয়, যাদের সব লিগ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার কথা রয়েছে। বিসিবি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, ন্যূনতম লজিস্টিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করার জন্য বাংলাদেশকে অন্য এক গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ তবে, জানা গিয়েছে যে আইসিসি আয়ারল্যান্ডকে আশ্বস্ত করেছে যে এমন কোনও অদলবদল হবে না। আইসিসি এখন বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ২১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে। সোজা জানাতে হবে যে, তারা ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলবে কি খেলবে না! যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা স্কটল্যান্ড ‘নন কোয়ালিফায়েড’ দল হিসেবে গ্রুপ বি-তে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
