জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এসে পৌঁছল এসআইআর-এ তথ্যগত অসংগতির তালিকা। নির্বাচন কমিশন বলছে এরা পড়েছেন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। শুধু তাই নয়, যাদের নাম ম্যাপিং করা যায়নি তাদের তালিকাও এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে ওই তালিকা টাঙাতে হবে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসগুলিতে। ফলে যারা এসআইআর-এ ফর্ম ফিলাপ করেছেন তারা সহজেই দেখে নিতে পারবেন সেই তালিকা।
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে ওই লজিক্য়াল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছে ইআরওদের কাছে। গত বুধবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল,যাদের নাম তোলার ক্ষেত্রে তথ্যগত সমস্যা রয়েছে বা যাদের নাম ম্যাপিং করা যায়নি তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শনিবার সেই তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। শোনা যাচ্ছে রাজ্যে ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম রয়েছে ওই লজিক্য়াল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। ফলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দিয়ে তাদের ওই অসংগতি মেটাতে হবে ভোটদাতাকে।
কারা পড়ছেন ওই তালিকায়?
এসআইআরের জন্য ২০০২ সালের ভোটার লিস্টকে প্রামাণ্য হিসেবে ধরছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা অনুযায়ী যাদের সঙ্গে তাদের বংশগত সংযোগের অসঙ্গতি রয়েছে তারাই পড়বেন ওই তালিকায়। অর্থাত্ ভোটদাতার সঙ্গে বাবা-মায়ের নাম অমিল, বাবা-মায়ের নামের বানানে পার্থক্য, ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হলে ওই তালিকায় তিনি পড়ে যাবেন। পাশাপাশি কমিশন সূত্রে খবর, যেসব ভোটদাতাকে চিহ্নিত করা যায়নি, যাদের তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে সেই সমস্ত ভোটারদের তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন-গ্যারাজের শাটারের নীচে তেলে ঢেলে আগুন, ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত হিন্দু যুবক
আরও পড়ুন-রাতভর প্রবল বৃষ্টি, ভোররাতে গ্রামের পর গ্রাম ঢেকে দিল কাদার স্রোত, মৃত বহু…
উল্লেখ্য, এসআইআরের শুরু থেকেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছিলেন ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, ইতিমধ্যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে আরও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও বিরোধী ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করা হচ্ছে।
লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একটি সফটওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ৭ কোটি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি খুঁজে পেয়েছিল। যদি ১ ঘণ্টায় ডিসক্রিপেন্সি খুঁজতে পারে, তাহলে প্রকাশ করতে এত দিন কেন লাগছে?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
